বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

0
7

মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রশাসনের সব স্তরে স্বচ্ছতা বজায় রাখার কঠোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদিকে ১২ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান। এছাড়া পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি আরও একদিন (১৮ মার্চ) বাড়িয়েছে সরকার।
আতিকুর রহমান রুমন আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টা ১০ মিনিটে সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে আসেন। তিনি অফিসে এসে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে নিজের কক্ষের ৫০ শতাংশ লাইটের সুইচ অফ করে দেন এবং এসির বিদ্যুৎপ্রবাহ ২৫ দশমিক ১ মাত্রায় নিয়ে আসেন। এই মাত্রায় নিলে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পর তার দপ্তরের সব কক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে অর্ধেক লাইট বন্ধ এবং এসির মাত্রা কমানো হয়। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে মন্ত্রিসভার নির্দেশনায় সরকারি দপ্তরে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার, এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখা এবং সরকারি গাড়ির ব্যবহার সীমিত করার কথা বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি সব সিনিয়র সচিব/সচিব, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় অত্যন্ত জরুরি। এ কারণে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ও কর্পোরেশনসহ সব সরকারি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।
এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ১১ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে, বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার পরিহার করতে হবে এবং জানালা ও দরজা কিংবা ব্লাইন্ড খোলা রেখে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করতে হবে।
বিদ্যমান ব্যবহৃত আলোর অর্ধেক ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাইটের ব্যবহার পরিহার করতে হবে। অফিস চলাকালীন প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখতে হবে। এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার উপরে রাখতে হবে।
অফিস কক্ষ ত্যাগ করার সময় কক্ষের বাতি, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ করতে হবে। অফিসের করিডোর, সিঁড়ি, ওয়াশরুম ইত্যাদি স্থানে অপ্রয়োজনীয় বাতি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে। অফিস সময় শেষ হওয়ার পর সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি (লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, এয়ার কন্ডিশনার ইত্যাদি) বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে।
যাবতীয় আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে। গাড়ির ব্যবহার সীমিত করতে হবে। জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্ব-স্ব নিয়ন্ত্রণাধীন সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর/সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য চিঠিতে অনুরোধ করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here