নিত্যপণ্যের বাজারে লেবু, শসা, বেগুন, কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজের দাম কমলেও বেড়েছে মুরগি, চিনি, সুগন্ধি চাল ও মসলাপাতির দাম। হঠাৎ করে বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ কমে গেছে। বেশিরভাগ মুদিপণ্যের দোকানে সয়াবিন তেলের পাঁচ লিটারের ক্যান পাওয়া যাচ্ছে না।
এ ছাড়া চাল, ডাল, আটা ও অন্যান্য পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। অপরিবর্তিত রয়েছে গরু, খাসির মাংস, মাছের দাম। ইফতারি পণ্য হিসেবে খ্যাত ছোলা ও খেজুরের দামও কিছুটা কমে এসেছে।
শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, ফকিরাপুল বাজার, কাপ্তান বাজার, মুগদা বড় বাজার ও খিলগাঁও সিটি কর্পোরেশন বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দরদামের এ তথ্য পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বাজারে মুরগির দাম আবার বেড়েছে। ব্রয়লার ও সোনালি উভয় প্রজাতির মুরগির দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে। তাতে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম আবার ২০০ টাকা ছুঁয়েছে। পাশাপাশি বাজারে চিনি, পোলাওয়ের চাল ও বিভিন্ন ধরনের মসলার দাম বেড়েছে। আর লেবু, শসা, বেগুনসহ বিভিন্ন সবজির দাম কিছুটা কমেছে।
বিক্রেতারা জানান, রোজার শুরুতে, অর্থাৎ প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৪০-৫০ টাকা বেড়ে ২০০-২২০ টাকা হয়েছিল। কয়েক দিন পর দাম কমে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয় ১৬০-১৭০ টাকায়; কিন্তু রোজার মাসের মাঝামাঝি এসে দাম আবার বেড়েছে।
শুক্রবার বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৯০-২০০ টাকায়। মানভেদে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩০০-৩৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২৭০-৩০০ টাকা। ডিমের দামে অবশ্য কোনো পরিবর্তন নেই। প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকায়। কাপ্তান বাজারের মুরগি বিক্রেতা সোহেল বলেন, শীতে অনেক খামারে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুরগি মারা যাওয়ায় বাজারে কিছুটা সরবরাহ– সংকট রয়েছে। এর সঙ্গে রোজায় মুরগির চাহিদা বাড়াতেও দাম বেড়েছে। ঈদ আসতে আসতে মুরগির দাম আরও কিছুটা
বাড়তে পারে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে শুক্রবার প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা কেজি দরে, যা তিন সপ্তাহ আগে ছিল ৯০ টাকার আশপাশে, অর্থাৎ চিনির কেজিতে দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। আর মোড়কজাত চিনির দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১০৫ টাকা হয়েছে।
বিক্রেতারা জানান, পাইকারিতে প্রতি বস্তায় (৫০ কেজি) চিনির দাম বেড়েছে ৩০০ টাকা। তাতে পাইকারিতে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৬ টাকা। পোলাওর চাল হিসেবে পরিচিত চিনিগুঁড়ার দাম অনেকটা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। এরফান ও মোজাম্মেল ব্র্যান্ডের খোলা চিনিগুঁড়া চালের কেজি এখন ১৪০-১৫০ টাকা। আর মোড়কজাত চিনিগুঁড়া চালের দাম আরও বেশি, কেজি ১৭৫-১৮৫ টাকা। মাসখানেক আগেও ৫০-৬০ টাকা কমে এ চাল কেনা যেত।
বাজারে অন্যান্য চালের দাম দুই সপ্তাহ ধরে স্থিতিশীল রয়েছে। ঈদ সামনে রেখে এ মাসের শুরু থেকেই বাজারে বিভিন্ন ধরনের মসলার দাম বাড়ছে। যেমন আলুবোখারার কেজি ৭৫০ থেকে বেড়ে এক হাজার টাকা হয়েছে। এ ছাড়া জিরা ও কিশমিশের দাম কেজিতে ৪০, কাঠ ও কাজুবাদামের দাম কেজিতে ১০০ টাকার মতো বেড়েছে। এদিকে কয়েক দিন ধরে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমেছে। পণ্যটির দাম না বাড়লেও ক্রেতারা অনেক দোকানে গিয়ে এক পাঁচ লিটারের বোতল পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন।
বিক্রেতাদের দাবি, ডিলাররা চাহিদার তুলনায় প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ তেল সরবরাহ করছেন। ফকিরাপুল বাজারের বিক্রেতা নাজমুল হাসান বলেন, তেলের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পরে দাম বাড়ানো হতে পারে। না হলে যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়ে তেলের দাম বাড়ানো হতে পারে। বাজার নিয়ন্ত্রণে নতুন সরকারকে শুরু থেকেই কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রোজার শুরুতেই বাজারে লেবু, শসা, বেগুন, কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজের দাম বেড়েছিল। এক সপ্তাহে এসব পণ্যের দাম কিছুটা কমেছে। গতকাল রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি হালি লেবু ৪০-৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা রোজার শুরুতে ছিল ১০০ টাকার ওপরে।
এ ছাড়া শসা, বেগুন ও কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ২০ টাকা করে কমেছে। শুক্রবার প্রতি কেজি শসা ৮০-১০০ টাকা, বেগুন ৬০-৮০ টাকা ও কাঁচা মরিচ ১২০-১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। রোজার শুরুতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়ে ৫৫-৬০ টাকা হয়েছিল। গতকাল পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০-৪৫ টাকা। অন্যান্য সবজির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।




