ঈদের ছুটিতে ননদ নিশি এসেছিলেন বাবার বাড়ি বেড়াতে। ঢাকায় ঘুরতে যাওয়ার শখ ছিল ভাবী শাকিলার। তাই ঈদের ছুটি শেষে শাকিলা, তার ছেলে সাবিত, মেয়ে সাবিহা, ননদ নিশি ও নিশির একমাত্র মেয়ে সোহানা এই পাঁচজন সৌহার্দ্য পরিবহনে রাজবাড়ী থেকে ঢাকা যাচ্ছিলেন ঘুরতে। কিন্তু কে জানত এই যাত্রাই হবে তার সন্তান আর ভাতিজির শেষ যাত্রা।
শাকিলা বেগমের প্রতিবেশী মরিয়ম আক্তার কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, পদ্মায় বাসডুবির পর পরই শাকিলা এক হাতে মেয়েকে কোলে নিয়ে আর অন্য হাতে সাঁতরে বাস থেকে বেরিয়ে পল্টুনের কাছে এসে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের বলেন, ভাই আপনারা মেয়েটাকে কিছুক্ষণ ধরে থাকেন, আমি বাস থেকে আমার ছেলেটাকে নিয়ে আসি। তখন পল্টুনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন মেয়েরা সঙ্গে মাকেও টেনে উপরে নিয়ে আসেন। কারণ তারা বুঝেছিলেন শাকিলা এবার ছেলে উদ্ধার করতে গেলে আর কখনোই ফেরত আসতে পারবেন না। এরপর শাকিলা পল্টুনে আসার পরই অজ্ঞান হয়ে যান।
দৌলতদিয়ায় বাসডুবির ঘটনায় শাকিলার ছেলে সাবিতের (৮) সঙ্গে ননদের মেয়ে সোহানাও (১০) প্রাণ হারিয়েছে। শুধু বেঁচে ফিরেছেন শাকিলা, তার মেয়ে সাবিহা ও ননদ নিশি।
এলাকাবাসী জানায়, শাকিলা বেগম দাদশী ইউনিয়নের আগমাড়াই গ্রামের শরিফুল ইসলামের স্ত্রী। শরিফুল ইসলাম পেশায় রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী। সাবিত স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
প্রতিবেশীরা জানান, শরিফুলের বোন নিশি আক্তার ঢাকায় গার্মেন্টে চাকরি করেন। স্বামী ও একমাত্র সন্তান সোহানাকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন তিনি। ঈদের ছুটিতে নিশি এসেছিলেন বাবার বাড়ি বেড়াতে। ছুটি শেষে ভাবী, ভাতিজা আর ভাতিজিকে নিয়ে ঢাকায় ফেরার পথে এ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তারা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আগমারাই গ্রামে শরিফুলদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দুই শিশুর মরদেহ পাশাপাশি রাখা হয়েছে। সেখানে লোকে লোকারণ্য। শরীফুল তার প্রিয় সন্তানের কাছে বসে কান্না করছেন। শরিফুলের স্ত্রী শাকিলা শোকে নির্বাক হয়ে গেছেন। মাঝে মধ্যে বিলাপ করছেন ছেলের শোকে। তার স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। মেয়ে হারানো নিশি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। যেন কাঁদতে কাঁদতে তার চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। মাঝে মধ্যে তিনি মূর্ছা যাচ্ছিলেন।
শরিফুল ইসলামের স্বজন সিরাজুল ইসলাম ক্রন্দনরত কণ্ঠে বলেন, এ দৃশ্য দেখা যায়না। একটা সুখী পরিবারে এমন কালো ছায়া নেমে আসবে তা কল্পনাও করেনি কেউ।




