রাজস্ব আদায় ৭১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা কম

0
5

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন থেকে পিছিয়ে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সেই ধারা থেকে এখনও বের হতে পারছে না সংস্থাটি। এতে ঘাটতির
পরিমাণ বেড়েই চলছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এনবিআরের রাজস্ব আদায় কম হয়েছে প্রায় ৭১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। তবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৩৬ শতাংশ। গতকাল বুধবার প্রকাশিত এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

রাজস্ব কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধসহ নানা কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে ছিল ধীরগতি, যার প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আহরণে। তাদের মতে, এমনিতেই ব্যয়ের চাপ সামলাতে হিমশিম অবস্থায় সরকার। এর মধ্যে এই বিশাল ঘাটতি অর্থবছরের শেষ সময়ে রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে ঋণের দায় পরিশোধ, সরকারের পরিচালন ব্যয় নির্বাহ, বাজেট বাস্তবায়ন করতে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর বিকল্প নেই।

এমন বাস্তবতায় করজাল বৃদ্ধি করা, কর পরিপালন নিশ্চিতকরণ ও কর ফাঁকি প্রতিরোধ করার পাশাপাশি ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব পুনরুদ্ধারে এনবিআর কাজ করছে বলে জানান কর্মকর্তারা। এর অংশ হিসেবে চলতি করবর্ষে আয়কর রিটার্ন জমার সময় চার দফায় বাড়ানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) ও আয়কর– এই তিন খাতের কোনো খাতেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি এনবিআর। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রাজস্ব আহরণে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন লাখ ২৫ হাজার ৮০২ কোটি টাকা। বিপরীতে প্রকৃত আহরণ হয়েছে দুই লাখ ৫৪ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা। অর্থাৎ রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে।

শুধু গত ফেব্রুয়ারি মাসে শুল্ক-কর বাবদ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২ হাজার ৫১ কোটি টাকা। তবে সংগ্রহ হয়েছে ৩০ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসের একক লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি প্রায় ১১ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। তবে গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় এই মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় এনবিআরকে চার লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হয়। পরে তা সংশোধন করে পাঁচ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। এই হিসাবে নতুন সরকারকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জনে শেষ চার মাসে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। অর্থাৎ প্রতি মাসে আদায় করতে হবে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা, যা অনেকটা অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায় হয়েছে গত জানুয়ারিতে। ওই মাসে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। আর সর্বনিম্ন আদায় হয়েছে গত আগস্টে ২৭ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় সবচেয়ে বেশি ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতে। এ খাতে গত আট মাসে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। আদায়ের লক্ষ্য ছিল এক লাখ ১৮ হাজার ৫১০ কোটি টাকা। এ সময়ে আদায় হয়েছে ৮৫ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা। এ খাতে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ।
ভ্যাট বা মূসক খাতে এসেছে ৯৭ হাজার ২৮২ কোটি টাকা। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় এক লাখ ১৮ হাজার ২১৪ কোটি টাকা। সেই হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ভ্যাট আদায় কম হয়েছে ২০ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
তুলনামূলক ভালো আদায় হয়েছে পণ্য আমদানি খাত থেকে। আট মাসে এ খাত থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৯ হাজার ৭৯ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৭১ হাজার ৯১২ কোটি টাকা। তবে শুল্ক খাতে তুলনামূলক প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here