বাংলাদেশের পুঞ্জীভূত বিদেশি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে সরকারি ও বেসরকারি খাতে নেওয়া মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১৩ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল প্রায় ১১২ বিলিয়ন দশমিক ২২ ডলার। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে বিদেশি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন বা ১৩০ কোটি ডলার।
বিদেশি ঋণের হালনাগাদ প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল বুধবার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। গত বছরের জুনের তুলনায় সেপ্টেম্বরে পুঞ্জীভূত বিদেশি ঋণের পরিমাণ কমেছিল। গত জুন পর্যন্ত বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল ১১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের সেপ্টেম্বরে বিদেশি ঋণের পরিমাণ কমে যাওয়ার পর ডিসেম্বরে এসে তা ফের বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তাদের মতে, সরকারি ও বেসরকারি দুই খাতেই বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ বেড়েছে। এ কারণে পুঞ্জীভূত ঋণের পরিমাণও বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বর শেষে বিদেশি ঋণ বেড়েছে ১ দশমিক ১৬ শতাংশ। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণের পরিমাণই বেশি বেড়েছে। বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণ বেড়েছে ২ শতাংশের বেশি। আর সরকারি খাতে বেড়েছে ১ শতাংশের কিছু কম। ডিসেম্বর শেষে সরকারি খাতে বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৩ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার। আর বেসরকারি খাতে ২০ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এনামুল হক সমকালকে বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বৈদেশিক ঋণ প্রয়োজন। তবে বিদেশি উৎস থেকে নেওয়া ঋণের সঠিক এবং মানসম্পন্ন ব্যবহারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঋণের অর্থ এমন প্রকল্পে ব্যবহার করা উচিত, যাতে মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হয় এবং মুনাফা নিশ্চিত করে।
তিনি মনে করেন, জ্বালানি আমদানিতে হয়তো নতুন করে আরও ঋণ সরকারকে নিতে হবে। গত প্রান্তিকে বেসরকারি খাতে ঋণ গ্রহণের হার বেশি থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঠিক কী কারণে ওই সময়ে এ ধরনের ঋণের পরিমাণ এতটা বাড়ল, তা স্পষ্ট করে বোঝা যাচ্ছে না।
প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিদেশি উৎসের মোট ঋণের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ৮৭ দশমিক ৬২ শতাংশ। বাকি ১২ দশমিক ৩৮ শতাংশ স্বল্পমেয়াদি ঋণ। দীর্ঘমেয়াদি ঋণের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণ বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে এসেছে। এ ধরনের ঋণ ৪১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
দ্বিপক্ষীয় বিদেশি ঋণ ২৮ দশমিক ৮২ শতাংশ। সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট আছে শূন্য দশমিক ১৬ শতাংশ। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ আছে ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ। বাণিজ্যিক ঋণ আছে মোট ঋণের ৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এ ছাড়া অন্যান্য ঋণ ২ দশমিক ১৩ শতাংশ।




