আমার সাড়ে তিন বছরের বাচ্চাটা এতিম হয়ে গেল। আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। সুষ্ঠু বিচার চাই। নির্দোষ মানুষটাকে কেন হত্যা করল? যারা মারিছে, তাদের ফাঁসি চাই। কেন আমার ছোট সন্তানডারে এতিম করল? এখন কাকে আব্বা বলে ডাকবে।’
কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন আফিয়া খাতুন (২৭)। তিনি নড়াইলে ট্রাকে তেল দিতে না পারায় পাম্পের ব্যবস্থাপককে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যা করা নাহিদ সরদারের (৩৩) স্ত্রী। তাদের বাড়ি নড়াইল সদর উপজেলার পেড়লি গ্রামে। পাশের তুলারামপুর গ্রামে ঢাকা-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে অবস্থিত তানভীর ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক ছিলেন নাহিদ। গতকাল রোববার সকালে নিহত নাহিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, হত্যার খবর পেয়ে বাড়িতে ভিড় করছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। স্ত্রী আফিয়া খাতুন, মা শিউলি বেগমসহ কয়েকজন আহাজারি করছেন। সাড়ে তিন বছর বয়সী নাহিদের মেয়েটি ঘুমিয়ে আছে। তাদের চারপাশ ঘিরে সান্ত্বনা দিচ্ছেন স্বজন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনে শনিবার রাত ১২টার দিকে তেল নিতে আসেন ট্রাকচালক সুজাত মোল্যা। পাম্পে না থাকায় তেল দিতে অস্বীকৃতি জানান পাম্প ব্যবস্থাপক নাহিদ সরদার। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ট্রাকচালক সুজাত ব্যবস্থাপককে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যা করার হুমকি দেন। পরে রাত ২টার দিকে মোটরসাইকেল যোগে নিজ গ্রাম পেড়লি যাচ্ছিলেন ম্যানেজার নাহিদ ও কর্মচারী জিহাদ। পাম্প থেকে ১০০ গজ দূরে গেলে পেছন দিয়ে এসে ট্রাকচালক সুজাত তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে নাহিদের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় জিহাদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
রাতে ফিলিং স্টেশনে থাকা কর্মী সোহান হোসেন বলেন, ‘ম্যানেজার নাহিদ কাকাকে সুজাত বলেছিল, তুই তেল না দিলে তোকে আজকে গাড়িচাপা দিয়ে মেরে দেব। তেল না থাকায় তাকে তেল দেওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু ট্রাক নিয়ে তিনি পাম্পেই বসে ছিলেন। রাত ২টার দিকে ম্যানেজার বাসায় রওনা দিলে সুজাতও ট্রাক নিয়ে পেছনে যায়। তখন আমাদের কাছে খটকা লাগে। এগিয়ে যায়ে দেখি, সুজাত আমাদের ম্যানেজারের গাড়ির ওপর দিয়ে গাড়ি চালায় দিয়ে চলে গেছে। আমরা যেতে যেতে নাহিদ কাকা মারা যায়। আরেকজন ছিল, তার অবস্থা গুরুতর।’
ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল বিকেল ৩টার দিকে নিহত নাহিদের চাচা রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন। মামলার পর বিকেলেই অভিযুক্ত ট্রাকচালক সুজাত আলীকে যশোরের বাঘারপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৬-এর একটি দল।




