টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। তালসারির মোহনায় ঠিক কী ঘটেছিল, কীভাবে এত লোকের সামনে কীভাবে পানিতে ডুবে গেলেন অভিনেতা, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই এখন নানা বয়ান সামনে আসছে। আরও অবাক করা বিষয়, অনেক তথ্যই একে অন্যের সঙ্গে মিলছে না।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। হাসপাতাল সূত্রের বরাতে কলকাতার সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, অভিনেতা রাহুল দীর্ঘক্ষণ পানিতে ডুবে ছিলেন, সে কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার ফুসফুস, শ্বাসনালি, খাদ্যনালি ও পাকস্থলির ভেতরে বালি ও নোনাজলের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এতে ফুসফুস ফুলে দ্বিগুণ আকার ধারণ করে।
ঘটনার সময় সমুদ্রে শুটিং চলছিল। নিরাপত্তার জন্য উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নুলিয়া (লাইফগার্ড) ভগীরথ জানা। তিনিই প্রথম উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
এক সাক্ষাৎকারে ভগীরথ জানান, দুপুর থেকেই তিনি শুটিং স্পটে ছিলেন। অভিনেতা-অভিনেত্রী যখন সমুদ্রের দিকে এগোচ্ছিলেন, তখন তাদের একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু বিকেলের দিকে আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায়, জোয়ার দ্রুত বাড়তে থাকে—ফলে সতর্কবার্তা তাদের কানে পৌঁছায়নি বলে দাবি তার।
ভগীরথের ভাষায়, “ওরা যখন জলে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন, আমি দৌড়ে গিয়ে প্রথমে অভিনেত্রী শ্বেতাকে উদ্ধার করি। পরে রাহুলদাকে তুলি। তাকে কাঁধে করে উপরে এনে গাড়িতে তোলা হয়।”
তিনি আরও জানান, রাহুল সাঁতার জানতেন না। ফলে অনেক পানি শরীরের ভেতরে ঢুকে যায়। তবে উদ্ধার করার সময় তিনি অজ্ঞান ছিলেন না—শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল, হাঁসফাঁস করছিলেন। পেটে চাপ দিলে মুখ দিয়ে কিছু পানি বের হয়, এমনকি বমিও করেন।
ভগীরথের দাবি, “আমি ছোটবেলা থেকেই এই কাজ করছি। ওই জায়গায় জলের টান খুব বেশি ছিল। আমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলেও একই ঘটনা ঘটত।”
এই ঘটনায় টালিউডজুড়ে নেমেছে শোকের ছায়া। কীভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এমন দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে উদ্ধারকারীর এই বয়ান নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—শেষ মুহূর্তে ঠিক কী হয়েছিল অভিনেতার সঙ্গে?




