চীন ইরানকে সারেন্ডার করার পরামর্শ দিয়েছে

0
4

ইরাক যুদ্ধের সময়ও ওঁরা আবাবিল পাখির আশায় ছিলো, এখনো তাই! ফলাফল, ইরাক গেছে, ইরান যাবে। আবাবিল পাখিরা আরব্য উপন্যাসে মানায়, বাস্তবে নয়? সৌদি যুবরাজ আমেরিকাকে বলেছেন, এইতো সুযোগ, ইরানকে ধ্বংস করে দিন্। চীন ইরানী পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন করে আত্মসমর্পনের পরামর্শ দিয়েছে। ইসরাইল ইঙ্গিত দিচ্ছে, আমেরিকা থামলেও তারা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। ইরান ট্রাম্পকে একটি দামী উপহার পাঠিয়ে ইতিবাচন ইঙ্গিত দিচ্ছে। ট্রাম্প বলেছেন, ইরান পারমাণবিক শর্ত মেনে নিয়েছে। ট্রাম্পের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে চুক্তি না হলে ইরান ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়াবে। তেল সমবৃদ্ধ ‘খড়গ’ হারাবে। হম্বিতম্বি করলেও ইরানের সামনে হাত তুলে দেয়া ছাড়া কিচ্ছু করার নেই? যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ধারণা করা হচ্ছে, ইরানী রেজিমে কি ভাঙ্গন ধরেছে?

পূর্ববর্তী খবরে বলা হয়: যুদ্ধ থামা উচিত, না থামলে সমস্যা বাড়বে, সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক সঙ্কট বাড়বে, ইরান ধ্বংস হয়ে গাজায় পরিণত হবে। ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়ার জন্যে ইরানকে ৪৮ঘন্টা আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন, ইরান পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে, আলোচনা শুরু হয়। ট্রাম্প ৫দিনের জন্যে আক্রমন স্থগিত করেন। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন এরমধ্যে চুক্তি না হলে ইরানে ব্যাপক আক্রমন চালানো হবে। ইসরাইল বলেছে, এত তাড়াতাড়ি সবকিছু হচ্ছে, আমরা তা জানিনা। ইসরাইলের যুদ্ধবিরতির শর্ত আরো কঠিন। ইরান বলেছে, আলোচনা চলছে না! ট্রাম্প লবি বলছে, ইসলামাবাদে বৈঠক, মার্কিন পক্ষে এম্বাসাডর ষ্টিভ উইস্কভ ও ট্রাম্প জামাতা জেরিড কুশনার অংশ নিচ্ছেন, ভাইস-প্রেসিডেন্ট জে.ডি.ভ্যান্স শেষের দিকে অংশ নেবেন। যুক্তরাষ্ট্র থামলেও ইসরাইল কিন্তু বলে দিয়েছে, ইরান ও হেজবুল্লার ওপর আক্রমন চলবে।

সোমবার ট্রাম্প পাম বীচে সাংবাদিকদের বলেছেন, ১৫দফা নিয়ে নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে। তিনি ইরানে রেজিম চেঞ্জ ও যৌথ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং ইরানের সমবৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে আসার কথা বলেছেন। হরমুজ প্রণালী আমেরিকা-ইরান যৌথ নেতৃত্বে পরিচালনার কথা বলেছেন। ইরান অবশ্য মিশর-কাতারের মধ্যস্থতায় শর্ত-সাপেক্ষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মতির কথা জানিয়েছে। ইরানের শর্তগুলো কঠিন, যেমন ভবিষ্যতে ইরান আক্রমন করা যাবেনা, ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, মার্কিন ঘাঁটি তুলে নিতে হবে বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ইত্যাদি, যা মেনে নেয়া ট্রাম্পের পক্ষে সম্ভব নয়। ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধ চায়, কারণ অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে, নভেম্বরে মিড্-টার্ম ইলেকশন জিতলে হলে যুদ্ধ লম্বা করা যাবেনা। ইরান যুদ্ধ বন্ধ চায়, কারণ ইরানের আয়ের পথ সংকুচিত, ধ্বংস বন্ধ করা, যুদ্ধ ছড়িয়ে গেলে সেটি শিয়া-সুন্নি যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। ট্রাম্প সিএনবিসিকে বলেছেন, ইরান যুদ্ধবিরতির জন্যে মরিয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here