চাঁদ অভিমুখী যান থেকে পৃথিবী দেখার অভিজ্ঞতা জানালেন নভোচারীরা

0
4

বড় ধরনের ‘ইঞ্জিন ফায়ারিং’য়ের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার শেষ রাতের দিকে আর্টেমিসের চার মহাকাশচারী পৃথিবীর কক্ষপথ অতিক্রম করেছেন। তারা এখন দ্রুতবেগে চাঁদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

প্রায় ছয় মিনিটের এই প্রক্রিয়া শেষে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন মহাকাশচারীরা। প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় তাঁরা একটি ভাসমান মাইক্রোফোন একে অপরের দিকে ছুড়ে দিচ্ছেন। এ সময় সবার মুখে ছিল হাসির ঝিলিক। তারা জানান, মহাকাশযানের ভেতরটা কিছুটা শীতল তবে এই পরিবেশকে থাকার উপযোগী করে নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে মহাকাশযান থেকে পৃথিবী দেখার মুহূর্তটি বর্ণনা করেন কমান্ডার রিড ওয়াইসম্যান। তিনি বলেন, ‘এখান থেকে আপনি এক পলকে এক মেরু থেকে অন্য মেরু পর্যন্ত পুরো গোলকটি দেখতে পাবেন। আফ্রিকা, ইউরোপ এবং একটু মনোযোগ দিয়ে তাকালে উত্তর মেরুর আলোকছটাও দেখা যায়।’

রিড ওয়াইসম্যান বলেন, ‘এটি ছিল আমাদের দেখা সবচেয়ে চমৎকার মুহূর্ত। এটি আমাদের চারজনকেই স্তব্ধ করে দিয়েছিল।’ আর্টেমিস-২ নামের এই অভিযানে ওয়াইসম্যান ছাড়া আরও আছেন- ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোক ও জেরেমি হ্যানসেন।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহাকাশচারীরা এখন একটি ‘ফ্রি-রিটার্ন’ ট্র্যাজেক্টরি বা পথে আছেন। যা চাঁদের মহাকর্ষ শক্তি ব্যবহার করে মহাকাশযানটিকে বাড়তি জ্বালানি ছাড়াই পৃথিবীর দিকে ফিরিয়ে আনবে। নাসার কর্মকর্তা লরি গ্লেজ জানিয়েছেন, কক্ষপথীয় বলবিদ্যার নিয়মগুলোই নভোচারীদের চাঁদের দিকে নিয়ে যাবে। চাঁদের দূরবর্তী অংশ প্রদক্ষিণ করাবে এবং আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনবে।

মহাকাশচারীরা যে স্যুটগুলো পরে আছেন তা মূলত ‘সারভাইভাল সিস্টেম’ হিসেবে কাজ করে। কোনো কারণে কেবিনের চাপ কমে গেলে বা লিক হলে এই স্যুটগুলো ছয়দিন পর্যন্ত অক্সিজেন, তাপমাত্রা এবং যথাযথ বায়ুচাপ বজায় রাখতে সক্ষম।

মহাকাশে নভোচারীরা তাঁদের প্রথম কয়েক ঘণ্টা কাটিয়েছেন যানের সিস্টেমগুলো পরীক্ষা করে। মানুষ নিয়ে প্রথমবারের মতো যাত্রা করা এই যানে টয়লেটের সমস্যা ও যোগাযোগের ত্রুটির মতো কিছু ছোটখাটো ঝামেলার সমাধানও করেছেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে টয়লেটের পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে হাসিমুখে ক্রিস্টিনা কোক বলেন, নিজেকে ‘স্পেস প্লাম্বার’ হিসেবে পরিচয় দিতে পেরে আমি গর্বিত। এটি (টয়লেট) ঠিকঠাক কাজ করছে জানতে পেরে সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here