নববর্ষের শোভাযাত্রায় মোটিফ হিসেবে যা যা থাকছে

0
5

বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে এবারের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে-‘নববর্ষের ঐক্য, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। এই ভাবনাকে কেন্দ্র করে চারুকলায় তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন প্রতীকী মোটিফ, যেখানে লোকজ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং সামাজিক বার্তার সমন্বয় ঘটেছে।

ঢাবি চারুকলা অনুষদের ডিন শেখ আজহারুল ইসলাম চঞ্চল সমকালকে এবারের মোটিফগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, এবারের আয়োজনে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে রাখা হয়েছে একটি বৃহৎ মোরগের প্রতিকৃতি। ভোরবেলায় মোরগের ডাক যেমন নতুন দিনের সূচনা ঘোষণা করে, তেমনি এটি প্রতীকীভাবে নতুন বছর, নতুন সূর্য এবং জাগরণের বার্তা বহন করে। কৃষিভিত্তিক সমাজে মোরগের ডাক মানুষের দৈনন্দিন জীবনের এক স্বাভাবিক সময়চিহ্ন। সেই ঐতিহ্যকেই তুলে ধরা হয়েছে এই মোটিফে।

তিনি বলেন, লোকজ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সোনারগাঁ’র ঐতিহ্যবাহী কাঠের হাতিকেও বিশেষভাবে স্থান দেওয়া হয়েছে। চার চাকা বিশিষ্ট এই কাঠের হাতি দীর্ঘদিন ধরে বাংলার লোকশিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত। শোভাযাত্রায় এটিকে বৃহৎ আকারে নির্মাণ করে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

শেখ আজহারুল ইসলাম চঞ্চল বলেন, এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বাউল শিল্পীদের অবমূল্যায়নের প্রসঙ্গকে সামনে রেখে সংগীতের প্রতীক হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে দোতরা। এটি শুধু একটি বাদ্যযন্ত্র নয়, বরং বাংলার মরমিয়া সংগীত ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব। অন্যদিকে শান্তি, সম্প্রীতি এবং সর্বজনীন সহাবস্থানের বার্তা পৌঁছে দিতে রাখা হয়েছে পায়রার মোটিফ। বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, জাতিসত্তা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে এই পায়রা শান্তির আহ্বান জানাবে।

এর পাশাপাশি কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী টেপা বা পোড়ামাটির ঘোড়াও এবারের শোভাযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আরোহীসহ এই ঘোড়ার প্রতিকৃতি লোকজ শিল্পের আরেকটি অনন্য নিদর্শন হিসেবে উপস্থাপিত হবে বলে জানান তিনি।

প্রধান এই পাঁচটি মোটিফের বাইরে শোভাযাত্রায় আরও থাকবে প্যাঁচা, বিভিন্ন ধরনের মুখোশ, বাঘের মুখোশ এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র মোটিফ। সব মিলিয়ে এবারের আয়োজনটি হয়ে উঠছে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সমসাময়িক বার্তার এক সৃজনশীল সমন্বয় বলেও জানান চারুকলার ডিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here