ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবলে এক ম্যাচে ২৩ লাল কার্ডের ঘটনার এক মাসও পূর্ণ হয়নি। এবার একই রকম ঘটনার সাক্ষী হলো ফ্রান্স। দেশটির একটি অপেশাদার লিগের ম্যাচে খেলোয়াড় ও দর্শকদের মধ্যে মারামারির পর রেফারি এক ম্যাচেই ২৪ জনকে লাল কার্ড দেখিয়েছেন! ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে এমন গণ-লাল কার্ডের ঘটনা আগে কখনো দেখা যায়নি।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ওয়েস্ত ফ্রান্স’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে ফ্রান্সের অপেশাদার ফুটবলের আঞ্চলিক পর্যায়ের দ্বিতীয় বিভাগের লিগে। মোরবিয়ানের আঞ্চলিক এই ডার্বি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল আভেনির দে গিয়ি এবং ইন্দেপেন্দান্ত দে মোরোন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ২-২ গোলে ড্র হওয়ার পর রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই শুরু হয় আসল বিপত্তি।
সমর্থকদের মধ্যে শুরু হওয়া কথা-কাটাকাটি মুহূর্তের মধ্যেই রূপ নেয় গণমারামারিতে। এতে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের খেলোয়াড়েরা, এমনকি বাদ যাননি এক খেলোয়াড়ের অভিভাবকও। মোরোনের এক খেলোয়াড়ের বাবা তার ছেলেকে বাঁচাতে দৌড়ে মাঠে ঢুকে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মারামারির সময় কেউ কেউ লাঠিসোঁটাও ব্যবহার করেন। খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা একে অপরকে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করলে স্টেডিয়ামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ২৭ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ২৪ জনকেই লাল কার্ড দেখান রেফারি। এর মধ্যে আভেনিরের ১৩ জন এবং মোরোনের ১১ জন রয়েছেন।
এদিকে ফুটবল ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ লাল কার্ডের বিশ্বরেকর্ডটি এখনও আর্জেন্টিনার দখলে। ২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দেশটির পঞ্চম বিভাগের লিগে আতলেতিকো ক্লেপোল ও ভিক্টোরিয়ানো অ্যারেনাসের মধ্যকার ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ মিলিয়ে মোট ৩৬ জনকে লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন রেফারি।
ফরাসি ফুটবলের এই কলঙ্কজনক ঘটনা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আঞ্চলিক শৃঙ্খলা কমিটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করবে। ধারণা করা হচ্ছে, তদন্ত শেষে জড়িত উভয় ক্লাবের বিরুদ্ধেই বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।




