এলপিজির সংকট ও চড়া দামে ভোগান্তিতে সাধারণ গ্রাহক কৈলাশটিলা গ্যাস প্লান্ট

0
9

সিলেটের গোলাপগঞ্জে এলপি গ্যাসের সরবরাহ সংকট এবং সিলিন্ডারের অস্বাভাবিক বাজারমূল্যের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক। তারা বলছেন, বৈশ্বিক জটিলতার কারণে একদিকে জ্বালানি তেলের সংকট, অন্যদিকে গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন।

স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, এলপিজির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটে বাজার সিন্ডিকেটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এক সময় স্থানীয় কৈলাশটিলা গ্যাস প্লান্ট থেকে সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ করা হতো। তখন বাজার সিন্ডিকেটের সুযোগ না থাকায় গ্রাহক ভোগান্তি ছিল না। বর্তমানে সেই সুযোগ নেই। সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে সরাসরি কোনো সরবরাহ না থাকায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মূল্য বাড়ানো হয়েছে।

জানা গেছে, গোলাপগঞ্জে বিভিন্ন কোম্পানির ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার এক হাজার ৭৫০ থেকে এক হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্লান্ট সচল থাকলেও একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ওই চক্র প্লান্ট থেকে সিলিন্ডার সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করছে এবং ব্যবসায়ীরা তা অধিক দামে বিক্রি করছেন। এতে করে এক সময় সাধারণ গ্রাহকের নাগালে থাকা এই প্ল্যান্টের গ্যাস এখন সিন্ডিকেটের পকেটে চলে গেছে। ফলে তারা ইচ্ছেমতো বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ ভোক্তাদের দুর্ভোগ বাড়চ্ছে বাড়তি মুনাফার জন্য।

ভুক্তভোগী একাধিক গ্রাহক জানান, আগে তারা সরাসরি প্লান্ট থেকে স্বল্পমূল্যে গ্যাস পেতেন। বর্তমানে সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। এতে সংসারের খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে এবং রান্নার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। চলমান সংকটে জর্জিত সাধারণ ভোক্তারা গত বুধবার কৈলাশটিলা প্লান্টের সামনে বিক্ষোভও করেন। সেখানে তারা সাধারণ গ্রাহকের জন্য সরাসরি সরকারি দামে গ্যাস সরবরাহের দাবি জানান।

উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শুধু স্থানীয় প্লান্টের গ্যাস নয়, বাজারে থাকা অন্যান্য কোম্পানির এলপিজি সিলিন্ডারও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। গ্রাহকদের কয়েকজন জানান, এক সময় উপজেলার মানুষ সরাসরি প্লান্ট থেকে গ্যাস সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে পারতেন। মাঝে হঠাৎ প্লান্ট বন্ধ হয়ে যায়। পরে আবার ২০২৪ সাল থেকে প্লান্টটি চালু হলেও আগের মতো সরাসরি গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা আর চালু করা হয়নি।

এদিকে গ্যাস লাইন সংযোগের প্রতিশ্রুতি নিয়েও ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে। উপজেলার কয়েক হাজার পরিবার গ্যাস সংযোগের জন্য আবেদন ও নির্ধারিত ফি জমা দিলেও দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরেও সংযোগ প্রাপ্তির কাজে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ভুক্তভোগীরা দ্রুত সংযোগ প্রদান এবং জমা দেওয়া অর্থের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে একটি সিন্ডিকেট এলপিজি বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

গোলাপগঞ্জে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট নিরসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তারা কৈলাশটিলা গ্যাস প্লান্ট থেকে সরাসরি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত, বাজার মনিটরিং জোরদার এবং অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাপগঞ্জের কৈলাশটিলা এলপিজিসিএলের উপব্যবস্থাপক (প্রকৌশলী) আব্দুল মুমিন খান বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের নির্দেশে স্থানীয়ভাবে গ্রাহক পর্যায়ে সরাসরি সিলিন্ডারে গ্যাস বিক্রি বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া এই প্লান্ট পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা গ্রুপের ডিলারদের মাধ্যমে সিলিন্ডার গ্যাস সরবরাহ করে থাকে। গত বুধবার স্থানীয়রা আন্দোলন করেছে সেটা শুনেছেন। কিন্তু তাঁর কাছে কোনো ব্যাপারে কেউ যায়নি।

কৈলাশটিলা গ্যাস প্লান্টের একটি সূত্র জানায়, সরাসরি গ্যাস সরবরাহ করা হলে সে ক্ষেত্রে সহজলভ্যতার কারণে প্রচুর অপচয় হয় গ্রাহক পর্যায়ে। আবার কোম্পানির মাধ্যমে বাজারে গ্যাস সরবরাহ করার প্রক্রিয়া সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এতে ভোগান্তি হয় ভোক্তাদের।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আগের মতো সরাসরি গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ সম্ভব নয়। তবে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাজারমূল্য নাগালের মধ্যে রাখা গেলে গ্রাহকরা স্বস্তি পাবেন। এ ব্যাপারে সরকারের বিশেষ নজরদারির কথাও বলা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here