বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় ইরানি পরিচালক জাফর পানাহি

0
3

চলতি বছর টাইম ম্যাগাজিনের শীর্ষ প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ইরানের চলচ্চিত্র পরিচালক জাফর পানাহি। রাষ্ট্রীয় চাপ ও সেন্সরশিপ জটিলতার মুখেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় অবিচল এই নির্মাতার অদম্য স্পৃহাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে টাইম ম্যাগাজিনে।

জাফর পানাহিকে নিয়ে টাইমের ফিচারে বলা হয়, ‘বহু বছর ধরেই সিনেমার সেন্সরশিপ নিয়ে জটিলতা ও রাষ্ট্রীয় চাপের মুখে তিনি সিনেমা নির্মাণ করে চলেছেন। নিজের দেশেই তিনি সিনেমা নির্মাণ করতে গিয়ে বারবার ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। সিনেমা বানানোর জন্য বেশ কয়েকবার জেল খেটেছেন এই নির্মাতা।’

আরও বলা হয়, ‌‌‘এমন এক সময়ে, যুদ্ধের ভয়াবহতার আগেও, স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত হাজার হাজার ইরানিকে যখন হত্যা করা হয়েছিল, তখন তাঁর শিল্পকর্ম সততার সঙ্গে জরুরি অবস্থার সেসব মুহূর্ত তুলে ধরেছিল। শিল্পের জন্য বারবার কারারুদ্ধ হলেও তিনি থেমে থাকেননি।’

সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হলে, এক সাক্ষাৎকারে মাতৃভূমি ইরানে ফেরার ব্যকুলতা প্রকাশ করেন পানাহি। তখন তিনি সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টিও আঁচ করেছিলেন। এক প্রশ্নে তাঁর ভাষ্য ছিল, ‘একবছরের জন্য জেলে যাব, বেরিয়ে আসব একটি নতুন চিত্রনাট্য নিয়ে!’

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মধ্যে থাকা একটি জাতির ন্যায়বিচারের সীমিত প্রত্যাশা ও মানসিক ক্ষতের চিত্র তুলে ধরেন।এই পরিপ্রেক্ষিতে পানাহিকে আবারও একবছরের কারাদণ্ড এবং তাঁর শিল্পকর্মের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ইরানের আদালত।

বিষয়টি উল্লেখ করে টাইম লিখেছে, ‘প্রত্যাশিতভাবেই শাসকগোষ্ঠী তাঁর অনুপস্থিতিতে একবছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেয় এবং সেইসঙ্গে তাঁর জীবন ও কর্মের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবুও তিনি অবিচল। অকপট ও গভীর মানবিক গল্প বলার মাধ্যমে জাফর আমাদের মনে করিয়ে দেন যে, শিল্প তাঁর সর্বোচ্চ শক্তিশালীরূপে স্বাধীনতারই এক প্রকাশ।’

১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় তার প্রথম ফিচার ফিল্ম ‘দ্য হোয়াইট বেলুন’। ছবিটি কান চলচ্চিত্র স্বর্ণপাম পুরস্কার জিতেছিল। ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তার ‘দ্য মিরর’ দর্শকরা খুব পছন্দ করেন। ২০০০ সালে দর্শককে তিনি উপহার দেন আরেক মাস্টারপিস ‘দ্য সার্কেল’। সব ক’টি সিনেমায় রূপক হিসেবে প্রতিবাদী গল্প উঠে আসে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here