হোতাসহ গ্রেপ্তার ৪ মারামারি ও আর্থিক বিরোধের জেরে আসাদুল হত্যা: পুলিশ

0
5

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুলকে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসাদুল ও আসামিদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। আসামি আকতার হোসেনকে একসময় মারধর করে গুরুতর আহত করেন আসাদুল। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়। এছাড়া আর্থিক লেনদেন নিয়েও তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান।

তিনি জানান, এই ঘটনায় জড়িত চারজনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

তারা হলেন- মো. মুন্না, আকতার হোসেন, মিরাজ ফকির ও নয়ন ওরফে খোকন। তাদের ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার ও একটি মোটর সাইকেল।

উপকমিশনার বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর আমরা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করি। প্রথমে আমরা মোহাম্মদপুর ও আশাপাশের এলাকায় অভিযান চালাই। পরে কেরানীগঞ্জ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের হোতাসহ চারজনকে আটক করি। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে আলামত হিসেবে একটি মোটরসাইকেল ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার জব্দ করা হয়।

police 1776500311

তিনি বলেন, নিহত আসাদুল ও গ্রেপ্তার আকতারের মধ্যে বেশ কিছুদিন আগে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। যার প্রেক্ষিতে আসাদুলকে আসামীকে করে একটি মামলা করে আকতার। সেই মামলার আসাদুল পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় এবং জেলেও যায়। কিছুদিন আগে আসাদুল জামিনে বের হয়ে আসে। এছাড়া আকতার ও আসাদুলের টাকা-পয়সা সংক্রান্ত একটি বিরোধও আছে। এই দুটি কারণে আকতার প্রতিশোধ নিতে আসাদুলকে তারই বন্ধুদের সহায়তায় মধ্যরাতে ডেকে এনে ছুরিকাঘাতে এবং ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। গ্রেপ্তার চারজনের বাইরেও আমরা আরো কয়েকজনের নাম পেয়েছি। তাদের ধরতে আমরা অভিযান অব্যহত রয়েছে।

তিনি জানান, এই ঘটনায় নিহতের চাচাতো বোন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং আমরা আদালতে রিমান্ডের আবেদনও করবো।

পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত নিহত আসাদুলের নামে ৬টি মামলা পেয়েছি। এর মধ্যে ৪টি মাদক মামলা, একটি অন্য ধারার মামলা, অন্যটি দ্রুত বিচার আইনের মামলা। গ্রেপ্তার মুন্নার বিরুদ্ধে মাদক ও ছিনতাইয়ের ৭টি, মিরাজের বিরুদ্ধে একটি ও নয়নের বিরুদ্ধে দুটি মামলা পেয়েছি। আকতারের বিরুদ্ধে আমরা এখনো কোনো মামলা পাইনি।

মোহাম্মদপুরের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসছে না কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তেজগাঁও বিভাগের ছয়টি থানার মধ্যে মোহাম্মদপুর থানা বড়। এখানে প্রতিদিনই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। রায়েরবাজার, বসিলা, ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান—এসব এলাকায় নিয়মিত অভিযান চলে এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই ঘটনায় দেখা গেছে, বাইরে থেকে কিছু সন্ত্রাসী এসে অপরাধ করে আবার চলে গেছে এবং অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। এজন্যই আমরা ঢাকার বাইরে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেছি। আমরা চেকপোস্ট জোরদার করব এবং চলমান অভিযান আরও শক্তিশালী করব, যাতে বাইরে থেকে এসে কেউ অপরাধ করতে না পারে এবং মোহাম্মদপুর এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

গ্রেপ্তারদের রাজনৈতিক পরিচয় আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা আকতারের রাজনৈতিক পরিচয় পেয়েছি। সেটি আমরা যাচাই-বাছাই করছি।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ এলাকার সাদেক খানের ইটখোলা সংলগ্ন রাস্তায় আসাদুলকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। তিনি বরিশালের গৌরনদী থানার কালনা এলাকার জলিল সর্দারের ছেলে। পরিবার নিয়ে মোহাম্মদপুরের মেট্রো হাউজিংয়ের বি-ব্লকের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here