পারমাণবিক অধিকার থেকে ইরানকে বঞ্চিত করার কোনো যৌক্তিক কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ‘এই অধিকার কেড়ে নেওয়ার তিনি কে?’
পেজেশকিয়ানের মন্তব্যটি প্রকাশ করেছে ইরানিয়ান স্টুডেন্ট নিউজ এজেন্সি (আইএসএনএ)। পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদ সংলাপ ব্যর্থ হওয়া এবং দ্বিতীয় দফার আলোচনা আয়োজনের প্রস্তুতির মধ্যে পেজেশকিয়ান এমন মন্তব্য করলেন।
পজেশকিয়ান প্রশ্ন তুলেছেন, ‘ট্রাম্প বলছেন ইরানের পারমাণবিক অধিকার থাকতে পারবে না। কিন্তু কী অপরাধে এই অধিকার থাকবে না- তিনি সেটির ব্যাখ্যা দিচ্ছেন না। একটি জাতির অধিকার কেড়ে নেওয়ার তিনি কে?’
পেজেশকিয়ানের এমন মন্তব্যের পর তেহরান থেকে আলজাজিরার সাংবাদিক তৌহিদ আসাদি লিখেছেন, ইরানের পক্ষ থেকে এখন ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনের বার্তাই পাওয়া যাচ্ছে।
ইরানি প্রেসিডেন্ট একদিকে যেমন ট্রাম্পের কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, একইভাবেই তেহরান যুদ্ধ চায় না বলেও বার্তা দিয়েছেন। পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান পূর্ণ মর্যাদার সঙ্গে এই যুদ্ধের সমাপ্তি চায়।
তেহরান বলছে, তারা আরেক দফা সংঘাতের জন্য প্রস্তুত। একইসঙ্গে কূটনীতি ও সমঝোতাকেও অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তৌহিদ আসাদি লিখেছেন, ‘আমরা জানি যে পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, এই অনিশ্চয়তাকে তেহরান দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বলার পর কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। কিন্তু পরে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘জলদস্যুতার’ অভিযোগ এনে হরমুজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।
আসাদি লিখেছেন, সম্ভাব্য নতুন দফার আলোচনার আগে তেহরান এই জটিল পরিস্থিতিকে একটি বাড়তি সুবিধা বা চাপের জায়গা হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।




