রাজধানীর পল্লবীতে স্কুলশিক্ষিকা ফিরোজা খানম জোসনা হত্যার রহস্য বের করতে পারেনি পুলিশ। কে বা কারা কেন তাঁকে হত্যা করে–সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করা হয়। তবে হত্যার কারণ এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে নানামুখী তৎপরতা চলছে। শিগগিরই রহস্যের জট খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আল-আমিন জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতুড়ি ও রক্তমাখা ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের মাথার বাঁ পাশে ও মাঝে থেঁতলানো জখম ছিল। এ ছাড়া থুতনির ওপরেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তা জানতে কাজ করছে পুলিশ। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে।
এদিকে নিহতের স্বজনরা বলছেন, পরিবার থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন ছিলেন ফিরোজা। ফলে তাঁর বিষয়ে বিস্তারিত কেউ বলতে পারছেন না। তবে এই হত্যাকাণ্ডে দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান তারা।
পারিবারিক সূত্র জানায়, হলি ক্রিসেন্ট আইডিয়াল স্কুল নামে স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন ফিরোজা। তিনি মিরপুর-১২ নম্বর সেকশনের ডি ব্লকের ৮ নম্বর সড়কের ২৯ নম্বর ভবনের দোতলার একটি ঘরে ভাড়া থাকতেন। প্রায় ২৫ বছর আগে তাঁর বিয়ে হলেও কিছুদিন পরই স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি একাই থাকতেন। শুক্রবার সেই ঘরেই তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। তাঁর গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মুন্সিপাড়ার কৃষ্ণপুর এলাকায়।
নিহতের ভাই ফিরোজ আলম বলেন, ‘ফিরোজার সঙ্গে পরিবার বা আত্মীয়স্বজনের তেমন যোগাযোগ ছিল না। তিনি একটি স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি বিভিন্ন বাসায় টিউশনি করে নিজের খরচ নিজেই চালাতেন। তাঁর কোনো শত্রু ছিল কিনা তা আমাদের জানা নেই। কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হতে পারে সে বিষয়েও কোনো ধারণা করতে পারছি না। আমরা আশা করছি পুলিশ দ্রুত সত্যিটা খুঁজে বের করবে।’




