সারাদেশে হাম-রুবেলার জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীতে জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল দুপুরে টিকা কর্মসূচি উদ্বোধনের সময় বলেন, ‘সব শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে। মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে, যেন একটি শিশুও বাদ না পড়ে।’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দলীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পুষ্টিতে গুরুত্ব আরোপ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে টিকা কার্যক্রম উদ্বোধনকালে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, আগামী অর্থবছর থেকে ১৫ মাসের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে টিকার মজুত নিশ্চিত করা হবে।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, না, এটা (হাম) এখনও মহামারি নয়। যেসব এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বেশি হয়েছে, আমরা সেসব এলাকা টার্গেট করে ৮৫ শতাংশ ইতোমধ্যে টিকার আওতায় নিয়ে এসেছি। সিটি করপোরেশনও সেটি করছে। যেখানে হবে, আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ব। ইনশাআল্লাহ, এটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
অনুষ্ঠানে মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন মেগান বলডিন ও ইউনিসেফ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
‘ভগ্নপ্রায়’ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর ক্ষোভ
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে কর্মসূচি উদ্বোধনকালে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, বিগত সরকারের দুর্নীতি আর অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল নীতির কারণে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আজ বিপর্যস্ত। তিনি জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে দেশের ১ কোটি ৭৮ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কুসংস্কারে কান না দেওয়ার আহ্বান
সিলেটের চিকনাগুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিকা কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। টাঙ্গাইলে হামের টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে সারাদেশে টিকার সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পাঁচ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের এই টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। সামান্য জ্বর হওয়াকে স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নিয়ে কোনো কুসংস্কারে কান না দিয়ে শিশুদের কেন্দ্রে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, হাম-রুবেলার এক ডোজ টিকা প্রায় ৮৫ শতাংশ সুরক্ষা দেয় এবং শিশু দুই ডোজ টিকা পেলে সুরক্ষার হার প্রায় ৯৫ শতাংশে পৌঁছায়। যখন শিশুদের সময়মতো টিকার ডোজ দেওয়া না হয়, তখন নীরবে সুরক্ষার ঘাটতি বাড়তে থাকে; আর আমরা যখন তা টের পাই, ততক্ষণে রোগ অনেকটাই ছড়িয়ে পড়ে।
সংক্রমণের ভয়াবহ চিত্র
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এই পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৩৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৮৩ জন। সব মিলিয়ে ২২০ জন প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৭৪ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৪৬ শিশু, বিশেষ করে ঢাকা বিভাগে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি।




