এসএসসি পরীক্ষা প্রশ্ন ফাঁসের উদ্বেগ, সরকারের দাবি গুজব বিভিন্ন স্থান থেকে চারজন গ্রেপ্তার

0
7

চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ঘিরে আবার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী দাবি করেছেন, আজ রোববার অনুষ্ঠেয় ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগেই সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলো এটিকে ‘ভিত্তিহীন গুজব’ ও ‘মিথ্যা প্রচারণা’ বলে দাবি করেছে।

এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে নৈরাজ্য ও হতাশা সৃষ্টির অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) তাদের গ্রেপ্তার করে।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরেই বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফটোকপি দোকানের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের নামে কিছু সেট ঘুরে বেড়াচ্ছে। রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষক সমকালকে জানান, কয়েকজন ছাত্রী তাঁর কাছে একটি প্রশ্নপত্র নিয়ে এসে তা সমাধান করে দিতে অনুরোধ করেছিল। বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং কোনো ঝুঁকি এড়াতে শিক্ষার্থীদের দ্রুত সেখান থেকে চলে যেতে বলেন।

সিদ্ধেশ্বরী এলাকার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার আগের দিনও তারা ফেসবুকে একই ধরনের কিছু প্রশ্ন পেয়েছিল। শুরুতে সেগুলোকে সাধারণ সাজেশন বলে মনে হলেও পরে পরীক্ষার হলে গিয়ে অনেক প্রশ্নের সঙ্গে মিল খুঁজে পায় বলে দাবি করে তারা। এতে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

তেজগাঁও কলেজ কেন্দ্রের কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানায়, সামাজিক মাধ্যমে তারা জেনেছে দিনাজপুর অঞ্চল থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। যদিও এ তথ্যের সত্যতা তারা নিশ্চিত করতে পারেনি, তবু এমন গুঞ্জন তাদের মধ্যে মানসিক চাপ তৈরি করেছে। অনেকেই পরীক্ষার প্রস্তুতির বদলে অনলাইনে কথিত প্রশ্ন খোঁজার দিকে ঝুঁকে পড়ছে বলেও স্বীকার করেছে।

এ নিয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মুহা: তৌহিদুল ইসলাম গতকাল সমকালকে বলেন, ‘দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড থেকে কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি‌। এটি শুধুই গুজব।’

গতকাল দুপুরে ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশ্নপত্র ফাঁসসংক্রান্ত ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে একটি অসাধু চক্র শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে সরকার ও শিক্ষা ব্যবস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সর্বোচ্চ নিরাপত্তার মধ্যে প্রণয়ন, সংরক্ষণ ও বিতরণ করা হচ্ছে। কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে মাঠপর্যায়ে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক বলছেন, বারবার এমন অভিযোগ ওঠায় পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।

চারজন গ্রেপ্তার
এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়ানোর অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসির যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন এ তথ্য জানান। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সিফাত আহমেদ সজিব, মেজবাউল আলম, মোহাম্মদ সালমান ও মহিউজ্জামান মুন্না।

তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি এনসিপির
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তুলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার দলটির শিক্ষা ও গবেষণা সেলের পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here