গাজীপুতে টঙ্গীতে নিজ ঘর থেকে ছেলের ও রেললাইনের পাশ থেকে বাবার মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। খালাতো বোনকে কেন্দ্র করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন নিহত সোহেল রানার বড় ছেলে সাইফুর রহমান সোহান (২৮)।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর সোহানকে আদালতের নির্দেশে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সোহেল রানার বড় বোন শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা দায়ের করেন।
গাজীপুরের মহানগর হাকিম জুবায়ের রশিদের আদালতে সোহান গতকাল ১৬৪ ধারা অনুযায়ী দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ-দক্ষিণ) মহিউদ্দিন আহমেদ।
তিনি জানান, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনার পারস্পরিকতা, সোহানের আচরণ ইত্যাদি পর্যালোচনা করে ঘটনার পর পরই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালতে দেওয়া সোহানের জবানবন্দি অনুযায়ী, তাঁর সঙ্গে তার এক খালাতো বোনের বিয়ে ঠিক হয়েছিল। তবে ১০ বছরের বড় হওয়া সত্ত্বেও ওই তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন ছোট ভাই সাকিবুর রহমান। বিষয়টি জানাজানি হলে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। গত শনিবার রাতে এই নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।
গত রোববার ভোরে সোহান তাঁর ছোট ভাই সাকিবের মুখ চেপে ধরে এবং হাত-পা বেঁধে ধারালো ব্লেড দিয়ে হাত ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করেন। ঘটনাটি বাবা সোহেল রানা দেখে ফেলেন। আতঙ্কিত সোহান তখন বিষয়টি ধামাচাপা দিতে একজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে বনমালা রেললাইনে নিয়ে যান।
সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে রাতের অন্ধকারে দুজন ব্যক্তি একজনকে ধরে রেললাইনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। রেললাইনের ওপর তাঁকে ফেলে রেখে দ্রুত সরে যায় তারা। কিছু সময় পর ট্রেনে কাটা পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ নিহত সোহেল রানার বড় ছেলে সাইফুর রহমান সোহানকে আটক করেছিল। ঘটনার পর তাঁর আচরণ ছিল রহস্যজনক। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে যাননি, বরং স্বজনদের ফোন করে হত্যার খবর জানাতে থাকে। কিন্তু তাঁর ফোন কলের সময়, বক্তব্য এবং বাস্তব ঘটনার মধ্যে অসংগতি পাওয়া যায়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ-দক্ষিণ) মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, প্রেমের কারণে প্রতিশোধ নিতে বড় ভাই একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।




