গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার কাঁঠালতলী মোড় থেকে পল্লীবিদ্যুৎ স্টেশন পর্যন্ত সড়কে সামান্য বৃষ্টি হলেই জমে যাচ্ছে হাঁটুসমান পানি। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনের মুখ বন্ধ থাকায় পানি নিষ্কাশন না হওয়ার কারণে এ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী ও পথচারীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
জানা গেছে, তিন বছর আগে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ওই সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণ করে। পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনটির পশ্চিম প্রান্তের মুখ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ব্যক্তিমালিকানা জায়গায় পানি নিষ্কাশন করতে না দেওয়ায় সেখানে জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও এ ব্যাপারে মাথাব্যথা নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
মহিলা ডিগ্রি কলেজ মহল্লার বাসিন্দা ফরহাদ মিয়া বলেন, পল্লীবিদ্যুৎ স্টেশনসংলগ্ন সড়কে সবসময় পানি জমে থাকে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সেখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ড্রেনের মুখ বন্ধ থাকায় সবসময় ওই স্থানে পানি থেকেই যায়। বিষয়টি বহুবার পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যে কারণে পথচারীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
সুন্দরগঞ্জ কেজি স্কুলের শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তাদের স্কুলের সামনেই দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা। প্রায় তিন বছর ধরে প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা কষ্ট করে স্কুলে যাওয়া-আসা করছে। বৃষ্টিতে জমে থাকা পানির কারণে শিক্ষার্থীদের পোশাক এবং জুতা ভিজে যায়। সে জন্য বর্ষাকালে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসা বন্ধ করে দেয়।
ব্যাটারিচালিত অটোচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে পৌরসভার কাঁঠালতলী মোড় পর্যন্ত সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। দ্রুতগতিতে গাড়ি চালালে পানি ছিটকে পথচারীর জামাকাপড় নষ্ট হয়। এ নিয়ে পথচারীদের সঙ্গে প্রায়ই যানবাহন চালকদের বাগ্বিতণ্ডা লেগে যায়। দ্রুত জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।
সুন্দরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাজির হোসেন বলেন, বৃষ্টি বাদলের সময় কলেজের শিক্ষার্থীদের কষ্ট করে কলেজে আসতে হচ্ছে। বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে চরম ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরো বলেন বিষয়টি পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানো হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বেলকা মসজিদ পাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ সেলিম মিয়া বলেন, তাঁকে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রতিদিন ওই সড়ক দিয়ে স্কুলে যাওয়া আসা করতে হয়। বৃষ্টি বাদলের দিনে ওই স্থানে মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন পানিতে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়। সেই সঙ্গে সড়কের আশপাশ পথচারীদের গায়ে পানি ছিটকে পড়ে। এতে করে অনেকের জামা কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। জরুরী ভিত্তিতে সেখানকার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. খোকন রানা বলেন, সেখানে ড্রেন নির্মাণের সময় পৌর কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তখন বিষয়টির সমাধান করেনি পৌর কর্তৃপক্ষ। পরে ওই অবস্থায় ড্রেন নির্মাণ সম্পন্ন করে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ ইউএনও ও পৌর প্রশাসক ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, পৌরসভায় ড্রেনের কাজ চলমান রয়েছে। সে কারণে অনেক ড্রেনের মুখ বন্ধ রয়েছে। সমস্যার বিষয়টি জানার পর পৌর সহকারী প্রকৌশলীকে পানি নিষ্কাশনের জন্য আপাতত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।




