ঢাকায় বাংলা বৌদ্ধ শিল্পের চতুর্থ জাতীয় প্রদর্শনী শুরু

0
5

রাজধানীর আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার লা গ্যালারিতে শুরু হয়েছে বাংলা বৌদ্ধ শিল্পের চতুর্থ জাতীয় প্রদর্শনী ‘বাংলার বুদ্ধ: আমাদের পবিত্র সংঘ’। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উদ্বোধন হওয়া এই প্রদর্শনী চলবে আগামী ৬ মে পর্যন্ত।

আয়োজকরা জানান, এটি শুধু একটি শিল্প প্রদর্শনী নয়; বরং দর্শকদের জন্য এক ধরনের অন্তর্জাগতিক অভিজ্ঞতার ক্ষেত্র। এখানে শিল্পকর্মের মাধ্যমে করুণা, ধ্যান এবং মানবতার বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলার ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ শিল্পচর্চাকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।

এবারের প্রদর্শনীর মূল প্রতিপাদ্য বৌদ্ধধর্মের তৃতীয় রত্ন ‘সংঘ’। এই ভাবনার প্রতিফলন ঘটেছে প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া ৯১টি শিল্পকর্মে। বিভিন্ন মাধ্যমে নির্মিত এসব শিল্পকর্মে ধ্যান, পারস্পরিক নির্ভরতা এবং মানুষ-প্রকৃতির সম্পর্ক ফুটে উঠেছে।

প্রদর্শনীতে দেশের ৮০ জন শিল্পী অংশ নিয়েছেন। তাঁদের কাজের মাধ্যম হিসেবে রয়েছে জলরং, গোয়াশ, টেম্পেরা, ভাস্কর্য, মিনিয়েচার, বাটিক, অ্যাপ্লিক, উডকাট, নকশিকাঁথা, সিরামিক, প্রিন্টমেকিং ও ধাতুশিল্প। শিল্পীরা তাঁদের কাজে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও অস্তিত্বের আন্তঃসম্পর্ক তুলে ধরেছেন। শিল্পীরা তাঁদের নিজস্ব ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন সম্প্রীতি, করুণা, মানবিক সহমর্মিতা এবং অস্তিত্বের পারস্পরিক সংযোগ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগের অধ্যাপক ও প্রদর্শনীর কিউরেটর ড. মলয় বালা বলেন, বুদ্ধের করুণা, মৈত্রী ও প্রজ্ঞার শিক্ষা এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে দৃশ্যমান রূপ পেয়েছে।

সহ-কিউরেটর মিখাইল ইদ্রিস বলেন, সত্তার সংঘ মানবতার আধ্যাত্মিক সংকটের বিরুদ্ধে এক গভীর প্রতিষেধক। এই উপলব্ধিই শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি আমরা।

art

দেশের ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নবীন শিল্পীরা এখানে তাঁদের সৃজনশীলতা মেলে ধরেছেন। এছাড়াও যুক্ত হয়েছেন বুলবুল ললিতকলা একাডেমি এবং চীনের ইউনান আর্ট ইউনিভার্সিটির শিল্পীরাও।

বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে শ্রী বুদ্ধের জীবন ও দর্শন নতুনভাবে উপস্থাপনের পাশাপাশি দর্শকদের তা অনুভব করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আয়োজকরা জানান, শিল্প এখানে ধর্মীয় সীমা ছাড়িয়ে সার্বজনীন মানবিক ভাষায় রূপ নিয়েছে।

প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে প্রতিদিন আয়োজন করা হচ্ছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে সংগীত পরিবেশনা, জলরং কর্মশালা, শিল্পীদের সঙ্গে গ্যালারি ভ্রমণ এবং বৌদ্ধ দর্শনভিত্তিক আলোচনা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাঁশিতে এস. এম. রাকিবুল হাসান এবং ভারতনাট্যম নৃত্যে শেওলা রভর্তী আড়োজার পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

সমাপনী দিনে প্রথমবারের মতো ‘বেস্ট আর্টিস্টস অ্যাওয়ার্ডস’ প্রদান করা হবে। এতে প্রথম পুরস্কার ৮০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় ৫৮ হাজার, তৃতীয় ৩৫ হাজার এবং সেরা শিক্ষার্থী শিল্পকর্মের জন্য ৩৫ হাজার টাকা সম্মাননা দেওয়া হবে।

ওরিয়েন্টাল পেইন্টিং স্টাডি গ্রুপ ও লার্নিং ডিজাইন স্টুডিওর উদ্যোগে, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here