যাদের প্রতিদিন চিনি ও মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে, তারা সহজেই তা ছাড়তে পারেন না। কেননা শরীর নিয়মিত চিনি পেতে পেতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। এরপর সেটিকে শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করে। ফলে শরীর এক রকম ভাবে চিনির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। হঠাৎ সেই জোগান থমকে গেলে শরীর যেন শক্তি হারিয়ে ফেলে এবং তখনই শুরু হয় প্রত্যাহারের প্রতিক্রিয়া। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মস্তিষ্কের অভ্যাস। চিনি খেলে শরীরে ডোপামিন নামে রাসায়নিক বের হয়, যা আনন্দের অনুভূতি দেয়। হঠাৎ চিনি খাওয়া বন্ধ করলে এই আনন্দের উৎস কমে যায়। ফলে মন খারাপ, বিরক্তি, উদ্বেগ ইত্যাদি অনুভূতি বাড়তে পারে।
চিনি ও মিষ্টি জাতীয় খাবারের অভ্যাস সহজে ত্যাগ করার কৌশল
চিনির বদলে মিষ্টি স্বাদের ফল খান
চিনি বা মিষ্টি খাবারের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর বিকল্পগুলো খুঁজে নিতে পারেন। যেমন, চিনির বদলে মিষ্টি ফল খেতে পারেন। তাতে মিষ্টি স্বাদের সঙ্গে শরীর ফাইবারও পাবে।
পর্যাপ্ত পানি পান
পানি পানের ঘাটতি থাকলে বার বার মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা উচিত।
ডার্ক চকোলেট
চিনি খাওয়ার অভ্যাস ছাড়তে ৭০ শতাংশ কোকো পাউডার দিয়ে বানানো ডার্ক চকোলেট খাওয়া যেতে পারে। কিন্তু পরিমাপের দিকে নজর দিতে হবে।
সালাদ বা স্যুপ
খাবার খাওয়ার আগে সালাদ বা স্যুপ খেলে পেট ভর্তি থাকে এবং হঠাৎ মিষ্টির লোভ কমতে পারে।
জরুরি পর্যাপ্ত ঘুম
ঘুম কম হলে শরীরের বেশি মিষ্টির প্রয়োজন হতে পারে। ভালো ও পর্যাপ্ত ঘুম এই আকাঙ্ক্ষা কমাতে সাহায্য করে।
ছোলা ও বাদাম
মিষ্টির অভ্যাস ছাড়তে রোস্ট করা ছোলা, অঙ্কুরিত ডাল বা বাদাম খেতে পারেন। এসব খাবার পেট ভরায় এবং রক্তে শর্করার ওঠানামা কমায়। এগুলো খেলে মিষ্টির প্রতি আকর্ষণ খানিক কমতে পারে।
যা বাদ দেবেন
চিনি বাদ দেওয়ার পর আরও কিছু বিষয় খেয়াল রাখুন। যেমন সকালের নাশতায় কিংবা সারাদিনের খাবারে কৌটোর জুস, ড্রিংস ইত্যাদি রাখবেন না। ঘরে চিনি ছাড়া ফলের জুস বানিয়ে পান করতে পারেন।
চিনিযুক্ত ডেজার্ট যেমন কেক-পেস্ট্রি ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন। নয়তো কোনোভাবেই সুফল মিলবে না।
ক্যানযুক্ত খাবার, সস, প্রসেসড খাবারের মাধ্যমেও শরীরে চিনি প্রবেশ করে। এগুলো এড়িয়ে চলা উত্তম।




