ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় হাইওয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে অটোরিকশাচালকরা।
মঙ্গলবার সকালে হাইওয়েতে পুলিশ কর্তৃক অটোরিকশা আটক করার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ করেন তারা। শত শত অটোচালকরা সকাল ১১টা থেকে মৌচাকের লোহাকৈর বাজার সড়কের মাথায় জড়ো হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে অসহনীয় দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
পুলিশ ও অটোচালকরা জানায়, মহাসড়কে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যাটারিচালিত সব ধরনের যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও এ মহাসড়কের কোনাবাড়ী থেকে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় অবাধে যাতায়াতের অভিযোগ ওঠে। ওই সব অটোরিকশা মহাসড়কে চলাচল বন্ধ করতে সালনা হাইওয়ে পুলিশ গত কয়েকদিন ধরে অভিযান চালায়।
গত ৪ মে সকালে অধিকাংশ অটোচালক ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এর পর থেকেই হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা মহাসড়কে যাতায়াতকারী সব অটোরিকশা আটক করতে থাকে। এ ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার সকালে শত শত অটোচালক মহাসড়ক অবরোধ করে পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে।
অটোচালক আব্দুল খালেক মোল্লাহ ও কামরুজ্জামান বলেন, পুলিশকে সপ্তাহে টাকা দেওয়া হলে তারা একটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ম্যাসেজ দেন। সেই ম্যাসেজ দেখিয়ে মহাসড়কে পুরো এক সপ্তাহ চলে অটোচালকরা। যে অটোচালক টাকা দেয় না, তার গাড়ি আটক করে থানায় নিয়ে টাকা দাবি করে।
কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, অটোচালকদের বুঝিয়ে দুপুর ১টার দিকে মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে দেওয়া হয়। এ বিষয়গুলো আমাদের পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
সালনা হাইওয়ে পুলিশের ওসি শওগাত উল আলম বলেন, মহাসড়কে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ। তাই মহাসড়কে যাতায়াতকারী অটোরিকশা আটক অভিযান চালানো হয়েছে। এ কারণেই অটোচালকরা টাকা আদায়ের মিথ্যা অভিযোগ তুলে মহাসড়ক অবরোধ করেছিল। আমার কোনো পুলিশ কোনো অটোচালকের কাছ থেকে কোনো টাকা নেয় না।
তবে হাইওয়ে পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।




