নামমাত্র ডাউনপেমেন্ট দিয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতপশিলের মেয়াদ আরেক দফা বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে আগামী জুন পর্যন্ত দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য ঋণ পুনঃতপশিল করা যাবে। এর আগে বিশেষ পুনঃতপশিলের মাধ্যমে গত বছরের শেষ তিন মাসে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ কম দেখানো হয়। এভাবে খেলাপি ঋণ কম দেখানোর পুরোনো সংস্কৃতিতে ফেরা নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই আরেক দফা বাড়ানো হলো। গতকাল বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে সব ব্যাংকে পাঠানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক এ সার্কুলারের মাধ্যমে সময় বাড়ানোর পাশাপাশি এককালীন এক্সিট সুবিধা পাওয়া প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে ঋণ নেওয়ার সুযোগ রেখেছে। আগের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, এককালীন এক্সিট সুবিধা পাওয়া ঋণ সম্পূর্ণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনূকূলে কোনো ঋণ সুবিধা দেওয়া যাবে না। গতকালের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে বিদ্যমান ঋণ সুবিধা ছাড়া কোনো নতুন ঋণ সুবিধা দেওয়া যাবে না। ফলে এ ধরনের সুবিধা পাওয়া প্রতিষ্ঠান অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবে।
গতকালের সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত অশ্রেণীকৃত এবং মার্চ পর্যন্ত বিরূপ মানে খেলাপি হওয়া ঋণে বিশেষ পুনঃতপশিল সুবিধা দেওয়া যাবে। আবেদন নেওয়ার পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে। ডাউনপেমেন্টের অর্থ নগদায়নের আগ পর্যন্ত নীতি-সহায়তার আবেদন কার্যকর করা যাবে না। আর নীতি-সহায়তার জন্য গঠিত বাছাই কমিটির মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিশেষ সুবিধা পাওয়া প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনঃতপশিল করা যাবে না।
বিশেষ সুবিধায় খেলাপি ঋণ পুনঃতপশিল বা পুনর্গঠনের জন্য গত বছরের জানুয়ারিতে প্রথমে একটি কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই কমিটির কাছে প্রায় ১ হাজার ২০০ আবেদন জমা পড়ে। সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না করে কমিটির মাধ্যমে বিশেষ সুবিধা দেওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। ওই কমিটিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাইরের প্রতিনিধিও ছিলেন। যাদের একজন আবার ঋণখেলাপি হিসেবে বিশেষ সুবিধা নেন। এ ছাড়া পুনঃতপশিল সুবিধা পাইয়ে দিতে কমিটির একজন সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের পর বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করে। প্রথম দফায় গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বরের নির্দেশনায় বলা হয়, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণে বিশেষ সুবিধার জন্য আবেদন করা যাবে। এর পর গত বছরের ২৪ নভেম্বর অপর এক সার্কুলারের মাধ্যমে ওই বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণ পুনঃতপশিল, পুনর্গঠন ও এককালীন এক্সিটের জন্য আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়। এখন আবার সময় বাড়ানো হলো।




