চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি শৃঙ্খলা ফেরাতে কমিটিতে নতুন মুখ চায় শীর্ষ নেতৃত্ব

0
4

৯ মাস ধরে নেতৃত্বশূন্য চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি। রাউজানে বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারীদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের জের ধরে গত বছরের ২৯ জুলাই এই সাংগঠনিক জেলায় বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য উপজেলা ও পৌরসভায়ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নির্বাচনের আগে দল পুনর্গঠনের ঝুঁকি নেয়নি বিএনপি। এখন দলে শৃঙ্খলা ফেরাতে সেই কার্যক্রম শুরু করছেন দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। এ জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ পদপ্রত্যাশীরা। তবে মূল নেতৃত্বের জন্য ‘ক্লিন ইমেজের’ নতুন মুখ চাচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

উত্তর চট্টগ্রামের সাতটি উপজেলা এবং ৯টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বিএনপির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক জেলা। দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা চাচ্ছেন চলমান সংঘাত থামিয়ে বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা যোগ্য ও ত্যাগীদের যেন নেতৃত্বের ভার দেওয়া।

বিএনপির সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর গোলাম আকবর খোন্দকারকে আহ্বায়ক করে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির ৪৪ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে কমিটির ৯ সদস্যকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। কিন্তু কোন্দলের কারণে সাংগঠনিক জেলাতে দল গোছানো যায়নি। জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, সন্দ্বীপ, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া ও হাটহাজারী উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা যায়নি।

২০২৫ সালের শুরুর দিকে রাউজান উপজেলা কমিটি ঘোষণা করা হলেও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বর্তমানে স্থানীয় সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী সেই কমিটি মেনে নেননি। এখানে তাঁর নেতৃত্বে আলাদা একটি গ্রুপে রয়েছে। মূলত সেই গ্রুপের সঙ্গে দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার গ্রুপের সংঘাত-সংঘর্ষে অস্থির রাউজান। গত ২১ মাসে ২৩টি খুনের ঘটনা ঘটে রাউজানে, যার বেশির ভাগই রাজনৈতিক। সর্বশেষ গত ২৭ এপ্রিল রাউজানের কদলপুর এলাকায় নাছির উদ্দীন নামে এক বিএনপিকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। শুধু রাউজানই নয়, অন্য উপজেলাগুলোতেও কমবেশি সংঘর্ষ-সংঘাত ঘটছে।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, দলের একটি পক্ষের নানামুখী বাধার পরও স্বচ্ছতার সঙ্গে দলীয় কার্যক্রম চালিয়েছি। কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দিইনি, আপসও করিনি। সাংগঠনিক জেলার আওতাধীন সব কটি উপজেলা ও পৌরসভায় দল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার কাজ শুরু হলেও তা শেষ করা যায়নি।

এদিকে নির্বাচনের পর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কমিটি গঠন নিয়ে দলটির হাইকমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন দলটির পদপ্রত্যাশী নেতারা। কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে আলোচনায় আছেন এক ডজনেরও বেশি বিএনপি
নেতা। তাদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, বিলুপ্ত উত্তর জেলা
বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ হালিম, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, নূরুল আমিন, অধ্যাপক ইউনুছ চৌধুরী, নূর মোহাম্মদ,
সরোয়ার আলমগীর, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপি নেতা কতুব উদ্দিন বাহারসহ
আরও কয়েকজন।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন জানিয়েছেন, বিএনপির চট্টগ্রাম উত্তর জেলা দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক জেলা। কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর ৯ মাসের বেশি হলেও নতুন কমিটি করা হয়নি। আমরা চাই, দলের যোগ্য, ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের মূল্যায়ন করে দল পুনর্গঠন করা হোক। তাহলে দলে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও রাউজান উপজেলা বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, জেলা বিএনপি পুনর্গঠনের বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতা ও পদপ্রত্যাশীরা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আমরা আশা করছি, এখানে সহসাই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।
তবে চট্টগ্রামের দায়িত্বে থাকা দলের কেন্দ্রীয় এক নেতা সমকালকে বলেন, নেতাকর্মীদের বিরোধের কারণে রাউজানসহ উত্তর চট্টগ্রামে বিভিন্ন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে।
বিষয়টি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে ভাবিয়ে তুলেছে। তাই দলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারে এমন যোগ্য ও পরীক্ষিত মুখ খোঁজা হচ্ছে। সহসা এই সাংগঠনিক জেলায় দল গোছানোর কাজ শুরু হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here