তৃণমূলকে সক্রিয় রাখতে মাঠের কর্মসূচিতে বিএনপি

0
3

তৃণমূলকে ব্যস্ত রাখতে মাঠের কর্মসূচিতে ফিরছে বিএনপি। সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বিরোধীদের অপপ্রচার ঠেকাতে এই কর্মসূচি পালন করবে দলটি। এরই মধ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্র থেকে জেলা, মহানগর পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার ঝালকাঠিতে লিফলেট বিতরণ করেছে যুবদল।

বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ১৯ বছর পর চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করেছে দলটি। এর আগে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার পথ সুগম হয়। এখন আবার রাষ্ট্র সংস্কারে জুলাই সনদ আর গণভোট নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে সৃষ্ট মতবিরোধ যাতে রাজপথে না গড়ায় সেদিকে নজর দিতে হচ্ছে। এ জন্য এই দুই ইস্যু ছাড়াও বিরোধী দলের নেতিবাচক প্রচারণার পাল্টা হিসেবে নিজেদের বক্তব্য নিয়ে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

বিএনপি নেতারা জানান, দলটি শুরু থেকেই বলে আসছে তারা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। তবে গণভোটের মাধ্যমে যে সংস্কারের প্রস্তাব পাস হয়েছে তার দায় কোনোভাবেই তারা নেবেন না। এ নিয়ে দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করতেই এই নতুন কর্মসূচি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমকালকে বলেন, ‘কিছু রাজনৈতিক দল জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়। তারা বলছে, বিএনপি সংস্কার চায় না। তারা সত্যের অপলাপ করছে। আমরা নির্দ্বিধায় ঘোষণা করতে চাই যে, আমরা শুধু সংস্কার চাই না, সংস্কার বাস্তবায়নও করব।’

গত শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিটি এলাকার দলীয় সংসদ সদস্যকে (এমপি) তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি নির্ধারণের নির্দেশ দেন। গণভোট আর জুলাই সনদ নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ কিংবা ইশতেহার বাস্তবায়নের তথ্য জানাতে লিফলেট বিতরণ, পথসভা, উঠান বৈঠকের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বলেছেন তিনি। থানা-উপজেলা, এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে কর্মসূচি করে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে জানানোর জন্যও বলা হয়।

এর অংশ হিসেবে গত রোববার প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেশের প্রতিটি জেলা ও মহানগরের দায়িত্বশীল নেতাদের দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিএনপি এবং দলীয় গঠনতন্ত্রে স্বীকৃত অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের (জেলা ও মহানগর পর্যায়ের) নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াতে কর্মসূচি প্রণয়ন করতে হবে।

বিএনপির কয়েকজন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতা সমকালকে জানান, বিএনপির সরকার গঠনের প্রায় তিন মাস হতে চলল। এর মধ্যে তৃণমূলে ক্ষোভ-হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। তাদের বিগত দিনের ত্যাগের মূল্যায়ন হচ্ছে না বলে এক ধরনের অভিযোগ আছে। তারা চাইছেন সরকার আর ক্ষমতার অংশীদারিত্ব। তবে বিএনপি চেয়ারম্যান মনে করছেন, সরকার এবং দল মিলেমিশে একাকার হলে সংগঠন যেমন ধ্বংস হয়, তেমনি সরকারও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

অনেক সময় দলের নেতাকর্মীদের অযৌক্তিক দাবি বা অসংলগ্ন আচরণ সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। এতে সরকার ও দলের মধ্যে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়। এ জন্য সেটি তারা চাইছেন না। তারা দল আর সরকারকে আলাদাভাবে চাইছেন। এর অংশ হিসেবে দলীয় কার্যক্রমের দিকে নজর দিতে চাইছেন তারেক রহমান। নেতারা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনায় কর্মসূচির বাইরেও শিগগিরই সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করা হবে।

নেতারা বলেন, আগামী কোরবানির ঈদের পরপরই বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা, মহানগর ছাড়াও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠন করা হবে। ত্যাগী ও যোগ্যদের মূল্যায়ন করা হবে। এতে দল ও সংগঠন শক্তিশালী হবে, তেমনি নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হবেন।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এবং বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্রে সরকার কাজ করবে এবং বিরোধী দল তার সমালোচনা করবে—এটিই স্বাভাবিক। তবে সেই সমালোচনা এবং কর্মসূচি যেন গঠনমূলক হয়। সরকারের ভুল ধরিয়ে দিলে রাষ্ট্র আরও কার্যকর হয়। বিরোধী দল যদি উদ্দেশ্যমূলকভাবে সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য অনবরত মিথ্যাচার করে, সেটিকে ষড়যন্ত্র বলা হয়। আমরা সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জনগণের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here