পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। শুক্রবার বিকেলে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সোনাচান্দি এলাকায় নদীর বাঁধ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে পরিকল্পনা করেছিলেন যে, আমাদের পদ্মা নদীর ওপর ব্যারাজ নির্মাণ করতে হবে। পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করলে আমরা দক্ষিণাঞ্চলের ২৪টি জেলা এবং ১৬৩টি উপজেলায় নদীর প্রবাহমানতা ধরে রাখতে পারব। আমাদের ৫৪টি নদী ভারতের সঙ্গে এবং ৩টি মিয়ানমারের সঙ্গে অভিন্ন। এরই মধ্যে পদ্মা নদীর ওপর ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আজাদ বলেন, দেশের অভিন্ন নদীর প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আমরা একনেকে পদ্মা ব্যারাজের প্রকল্প পাস করে যেমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি, ঠিক তদ্রূপ অল্প দিনের মধ্যে আমাদের যে ফারাক্কা বাঁধ আছে, সেই ফারাক্কা চুক্তিও আমরা বাস্তবায়ন করব।
আমাদের অভিন্ন নদীগুলো আছে, সেগুলোর প্রবাহমানতা ফিরিয়ে আনার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্য দিয়ে তারা এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। এই নদীমাতৃক বাংলাদেশকে যদি আগামী দিনে বাঁচাতে হয়, তাহলে এই নদী-খাল-জলাশয় খনন, পুনঃখনন এবং পুনরুদ্ধার করতে হবে। আমাদের সেই নদীগুলোর প্রবাহমানতা যদি আমরা ধরে রাখতে না পারি, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ মরুভূমি হয়ে যেতে পারে। এই এলাকায় পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। আনন্দের বিষয় হচ্ছে, আগে যারা নদী দখল করেছিল, আজ সব মানুষ ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় তারা এখন দখল ছেড়ে দিচ্ছে।
এসময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কৃষ্ণ কমল চন্দ্র রায়, পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশুতোষ রায়, বোদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান, বোদা উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, বেংহারি বনগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে করতোয়া নদীর ১১ দশমিক ৫০ মিটার বাঁধ নির্মাণ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।




