শহীদ মিনারে অশ্রুসিক্ত নয়নে কারিনাকে বিদায়

0
5

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অশ্রুসিক্ত নয়নে কারিনা কায়সারকে বিদায় জানিয়েছেন নানা শ্রেণির মানুষ। এ সময় বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জানাজায় অংশ নেন। রোববার রাত সোয়া দশটার দিকে শহীদ মিনারে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শতাধিক মানুষ জানাজায় অংশ নেন।

জানাজায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ, এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, এ বি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় ছাত্রশক্তির আহবায়ক জাহিদ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার প্রমুখ অংশ নেন। জানাজার নামাজ পড়ান এনসিপির সদস্য সচিব আকরাম হুসাইন।

জানাজা শুরুর আগে কারিনার বাবা মুহাম্মদ কায়সার হামিদ বলেন, “আমি সত্যি গর্বিত এই অল্প সময়ের মধ্যে আমার মেয়ে কারিনা কায়সার, সে এত মানুষের মন জয় করেছে।” তিনি আরও বলেন, “সে গত জুলাইতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সঙ্গে ছিল, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলত, তার প্রতিবাদী কণ্ঠ ছিল।”

মেয়েকে নিয়ে মানুষের ভালোবাসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এই কয়েকদিন ধরে হাজার হাজার ফোন পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা বলছিল, আমরা জানাজায় পড়তে চাই।” তিনি বলেন, “যারা ওর শুভকামনা করেছে তাদের ধন্যবাদ। আর যারা বিরূপ মন্তব্য করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নাই। কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দিবেন।”

কারিনার মা লোপা কায়সার আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “এই জেনারেশন আমাকে চিনে কারিনা কায়সারের আম্মু। কারিনা আমাকে শূন্য করে দিয়ে গেছে। আপনারা কারিনার মতো কাউকে কখনো পাবেন না। এত ন্যাচারাল, এত হাসিখুশি, এত সাহসী, এত ক্রিয়েটিভ, ট্যালেন্টেড। ওর কাজের মতোই ও বেঁচে থাকবে।”

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা সবাই শোকাহত, অতি অল্প বয়সে তিনি অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছেন। আমরা আজকে মূলত শহীদ মিনারে সমাবেত হয়েছি ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন দল মতের লোকেরা একসাথে কারণ আমরা তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে চাচ্ছি। তিনি গণহত্যার বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, অন্যায়ের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তার মৃত্যুতে যারা উল্লাস করছে তাদের কাছেও একটা বার্তা যে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ আছি এবং যারা উল্লাস করছে তাদের বিচার এই বাংলার মাটিতেই হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here