ট্রাম্প-শি বৈঠক যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, বছরে বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য কিনবে চীন আজ চীন সফরে যাচ্ছেন ভ্লাদিমির পুতিন

0
2

চীনের রাজধানী বেইজিং সফর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ট্রাম্পের মধ্যে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠক থেকে কোন দেশ কী পেল, সে বিষয়ে নানা জল্পনা চলছিল। এর মধ্যেই বৈঠক-পরবর্তী নতুন বিবৃতি দিয়েছে হোয়াইট হাউস।

বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিবছর কমপক্ষে এক হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের কৃষিপণ্য কিনবে চীন। ২০২৮ সাল পর্যন্ত এই ক্রয় চুক্তি বহাল থাকবে বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

হোয়াইট হাউস জানায়, গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্প-শি বৈঠকে চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে আট কোটি ৭০ লাখ টন সয়াবিন কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা নতুন এই চুক্তির বাইরে থাকবে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ তদারকির জন্য ‘ইউএস-চায়না বোর্ড অব ট্রেড’ ও ‘ইউএস-চায়না বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্ট’ নামে দুটি নতুন সংস্থা গঠনে ট্রাম্প-জিনপিং সম্মত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

তবে ওয়াশিংটনের এসব ঘোষণার বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি বেইজিং। বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, চীনের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়া এসব ঘোষণা নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সিঙ্গাপুরভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিনরিখ ফাউন্ডেশনের বাণিজ্যনীতি বিশেষজ্ঞ ডেবোরাহ এলমসের ভাষ্যমতে, অতিরিক্ত ১৭ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য কেনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক হলেও ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কিন অর্থনীতিতে এর প্রভাব খুব সীমিত।

তাইওয়ান প্রশ্নও গুরুত্ব পেয়েছে বেইজিং বৈঠকে। চীনা গণমাধ্যমের দাবি, শি জিনপিং ট্রাম্পকে বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি সঠিকভাবে সামাল না দিলে সংঘাতের ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এরই প্রেক্ষিতে তাইওয়ান প্রশ্নে সুর নরম করেছেন ট্রাম্পও। সফর শেষে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতার পক্ষে নন তিনি। একই সঙ্গে আগে ঘোষিত তাইওয়ানের কাছে এক হাজার ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।

এর পরই তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তাইওয়ান কোনো সংঘাত উস্কে দেবে না, তবে নিজেদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নেও আপস করবে না। তিনি বলেন, তাইওয়ান আগে থেকেই স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে ট্রাম্পের সফরের চার দিনের মাথায় আজ মঙ্গলবার বেইজিং সফরে যাচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, একই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শীর্ষ দুই নেতার সফর প্রমাণ করছে, বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বেইজিং। পশ্চিমা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাশিয়ার সঙ্গে নতুন জ্বালানি চুক্তি সইয়ের পথে হাঁটতে পারে চীন। খবর বিবিসি, এনবিসি ও আলজাজিরার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here