আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশাল আকৃতির গরু ‘লাল বাহাদুর’। ব্যতিক্রমী আকার আর দৃষ্টিনন্দন গড়নের কারণে এরই মধ্যে এটি ক্রেতাদের নজর কেড়েছে।
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর এলাকার একটি খামারবাড়িতে ‘লাল বাহাদুর’কে লালন-পালন করা হয়েছে। কয়েক বছর ধরে বিশেষ যত্নে বড় করা হয়েছে গরুটিকে। দেবহাটা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আল ফেরদাউস আলফার প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা এই খামারটিতে স্থানীয় ৪ টি পরিবারের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ হয়েছে।
খামারে নিয়োজিত কর্মচারীরা জানান, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরুগুলোকে বড় করা হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা হরমোন ব্যবহার করা হয়নি। খড়, ঘাস, গমের ভূসি ও ভুট্টার গুঁড়ো ছিল ‘লাল বাহাদুরে’র প্রধান খাদ্য। ফলে এটি দেখতে অনেকটা দেশীয় গরুর মতোই। বর্তমানে খামারটিতে ২০০টি গরুর সক্ষমতা থাকলেও কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৪০টি গরু। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ৫ লাখ টাকা দামের ‘লাল বাহাদুর’। বাকি গরুগুলোর দাম চাওয়া হচ্ছে ২ থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যে।
খামারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মচারী বলেন, ‘আমরা প্রাকৃতিক উপায়ে গরুগুলো বড় করেছি। এখন বিক্রির জন্য এগুলো প্রস্তুত। লাল বাহাদুরকে ঘিরে মানুষের দারুণ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।’
এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় ১২ হাজার ৮৯৪টি খামারে কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব খামারে ৪৯ হাজারের বেশি গরু, ৪৪ হাজারের বেশি ছাগল ও ৬ হাজারের বেশি ভেড়া রয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ এম মান্নান কবীর বলেন, স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পশু লালন-পালন নিশ্চিত করতে খামারগুলোতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। প্রতিবছরের মতো এবারও বড় গরু নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ কাজ করছে।



