রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডিএনএ রিপোর্ট আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া গেলে পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে ঈদের পরপরই এ মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
আজ শনিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘আইনগত সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ: দায়িত্ব ও বাস্তবায়ন কৌশল’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের মামলায় ডিএনএ রিপোর্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ৭২ ঘণ্টার বেশি ডিএনএ রিপোর্ট তৈরি করতে সময় লাগার কথা নয়। সে ক্ষেত্রে দ্রুত সময়ের মধ্যে ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া যাবে বলে আশা করি।’
তিনি বলেন, ডিএনএ রিপোর্ট ছাড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করলে পরবর্তী সময়ে বিচার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। তাই ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরপরই পুলিশ চার্জশিট দাখিল করবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের আগেই চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হবে।
মামলাটির বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার প্রত্যয় জানিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঈদের ছুটির পরপরই এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যার বিচার করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যত দ্রুত সম্ভব এই মামলার বিচার শেষ করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছে। পুরো বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য রাখতে কাজ করা হচ্ছে। যাতে বিচার শেষে জনমনে কোনো ধরনের সংশয় বা প্রশ্ন না থাকে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সরকারি আইনগত সহায়তা কেন্দ্রকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই। আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। গরিব, অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে হবে।’
বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- আইন সচিব খাদেম উল কায়েস, লিগ্যাল এইডের উপ-পরিচালক মাসুদা ইয়াসমিন, সহকারী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব প্রমুখ। মুক্ত আলোচনায় ব্লাস্ট, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আইন সালিশ কেন্দ্র, ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই সঙ্গে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা।




