দুই ঘন্টার মধ্যে সেনাবাহিনীর মেজর ও ওসিকে পরিবর্তন করার দাবি করেছেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দুই ঘণ্টার মধ্যে সেনাবাহিনীর মেজরকে চেইঞ্জ করেছি এখান থেকে, দুই ঘণ্টার মধ্যে ওসিকে চেয়ার থেকে সরিয়েছি।’
গত শনিবার দুপুরে বাউফল উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, “অনেকে বলে, ‘ভোটে এমপি হইছেন।’ আমি বলি, খালি ভোটে এমপি হই নাই, পাওয়ারেও এমপি হইছি। পাওয়ার দেখাইতে আসবেন না। পাওয়ার দেখাইবে পাঁচ লক্ষ মানুষ।”
এসময় তিনি আরও বলেন, ‘শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস, এইটা বাউফলের মানুষকে দেখানোর দরকার নাই। শেখ হাসিনার কাছে জিজ্ঞেস কইরা জাইনা নিয়েন, শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস।’
নিজের রাজনৈতিক অতীত ও সাংগঠনিক কর্ম প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জাইনেন, ওখানকার সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসীর কাছে জিজ্ঞেস কইরেন, শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস। উল্টাপাল্টা কথা বইলা মটকা গরম করবেন না। মটকা বোঝেন? মটকা গরম করবেন না, সামলাইতে পারবেন না।’
বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘শেখ হাসিনা উন্নয়ন তো কম করে নাই; সেতু, সড়কসহ নানা উন্নয়ন, তারপরও পালাতে হয়েছে কেন? উন্নয়ন করে যদি কেউ টিকে থাকতে পারত, তাহলে বাংলাদেশে একমাত্র শেখ হাসিনার টিকে থাকার কথা। কিন্তু পারে নাই কেন? রাস্তা দিছে, ঘাট দিছে, সেতু দিছে—এইটা করছে, ওইটা করছে, কিন্তু মানুষের মনে কোনো আনন্দ ছিল না। মানুষের অধিকার ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, জনগণের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করা সম্ভব নয়।
বাউফল উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়নে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে উপজেলা জামায়াতের আমির রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এ সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সম্পাদক খালিদুজ্জামান।



