লক্ষ্মীপুরে পুকুর থেকে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবকের মরদেহ উদ্ধার

0
3

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সকালে নাশতা করে বের হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুকুরে ভাসতে দেখা গেল আরিফ হোসেন (৩৫) নামে এক যুবকের মৃতদেহ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে লক্ষ্মীপুর-রামগতি আঞ্চলিক সড়কের তোরাবগঞ্জ বাজারসংলগ্ন সেলিম চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনের পুকুর থেকে তাঁর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মানসিকভাবে কিছুটা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হলেও পরিবার-সংসারের দায়িত্ব নিয়ে ভ্রাম্যমাণ দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিহত আরিফ কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লুতু মুন্সী বাড়ির বাসিন্দা মাওলানা আক্তার হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয় তোরাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে চকলেট ও চানাচুরের ভ্রাম্যমাণ দোকান পরিচালনা করতেন। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ছিল তাঁর ছোট্ট সংসার।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আরিফ হোসেন মানসিকভাবে কিছুটা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও সহজ-সরল প্রকৃতির ছিলেন। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন সকালেও তিনি তোরাবগঞ্জ বাজারে এসে একটি দোকানে নাশতা করেন। পরে সকাল ৯টার দিকে স্থানীয়রা পুকুরপাড়ে তাঁর ব্যবহৃত লুঙ্গি, জুতা ও গেঞ্জি পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ করেন। খোঁজ নিতে গিয়ে পুকুরে তাঁর মরদেহ ভাসতে দেখেন তাঁরা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের মামা সুলতান আহাম্মদ টিপু জানান, আরিফ দীর্ঘদিন ধরে মৃগী রোগে (এপিলেপ্সি) আক্রান্ত ছিলেন এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন করতেন। বুধবার রাতেও তিনি ওষুধ খেয়েছিলেন। প্রতিবন্ধী হলেও তিনি সংসারের প্রতি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ছিলেন। তবে কী কারণে তিনি পুকুরে গিয়েছিলেন বা কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে, তা পরিবারের কারও জানা নেই।

কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here