ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসা উচিত?

0
5

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।। বাংলাদেশী মুসলমানরা যে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে এর একটি হিসাব দেই? ১৯৭০ সালে পাকিস্তানে জনসংখ্যা ছিলো ১২৩ মিলিয়ন, অর্থাৎ ১২কোটি ৩০লক্ষ। তন্মধ্যে পূর্ব-পাকিস্তানে ৬৫মিলিয়ন, পশ্চিম পাকিস্তানে ৫৮ মিলিয়ন। ১৯৬১ সালে পাকিস্তানের জরিপে মোট জনসংখ্যা ছিলো ৯৩মিলিয়ন, তন্মধ্যে পশ্চিম পাকিস্তানে ৪২.৮মিলিয়ন, এবং পূর্ব-পাকিস্তানে ৫০মিলিয়ন। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, সাড়ে ৭কোটি বাঙ্গালীকে দাবায়ে রাখতে পারবা না! সোজা অংকের খাতিরে ধরে নেয়া যাক ১৯৭১ সালে পাকিস্তানে জনসংখ্যা ছিলো ১৩কোটি, তন্মধ্যে পূর্ব-পাকিস্তানে সাড়ে ৭কোটি, পশ্চিম-পাকিস্তানে সাড়ে ৫কোটি।

 

বাংলাদেশে ২০২২ সালের জনসংখ্যা জরীপ অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৭কোটি (১৬কোটি ৯৮লক্ষ ২৮হাজার ৯২১জন)। পক্ষান্তরে পাকিস্তানে ২০২৩ সালের জনসংখ্যা জরিপ অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা হচ্ছে প্রায় ২৫কোটি (২৪কোটি ১৪লক্ষ ৯৯হাজার ৪৩১জন + কাশ্মীর ও গিলগিট-বাল্টিস্তান, আদম শুমারীতে এটি ধরা হয়নি)। অর্থাৎ ১৯৭১-২০২৩ পর্যন্ত পাকিস্তানের জনসংখ্যা  সাড়ে ৫কোটি থেকে বেড়ে ২৫কোটি হলে, একই সময়ে (১৯৭১-২০২২) বাংলাদেশের জনসংখ্যা সাড়ে ৭কোটি থেকে বেড়ে মাত্র ১৭কোটি হয় কি করে? সাধারণ গণিতের হিসাবমতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা হওয়া উচিত ৩৪কোটি (২৫ x ৭.৫/৫.৫)। আরো সহজভাবে দেখলে দেখা যাবে পাকিস্তানে জনসংখ্যা প্রায় ৫গুন্ বেড়েছে, বাংলাদেশে ৫গুন্ বাড়লে সংখ্যাটি ৩৪কোটি’র বেশি দাঁড়ায়।

 

পাকিস্তানে জন্মহার সামান্য বেশি, বাংলাদেশে মৃত্যুহার কম। ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ে বাংলাদেশে ভাল, বহুবিবাহ প্রায় একই, এরপরও জনসংখ্যা বৈষম্য এতটা প্রকট হতে পারে? প্রশ্ন হলো বাংলাদেশে জনসংখ্যা ১৭কোটি, থাকার কথা ৩৪ কোটি, তাহলে বাকি ১৭ কোটি কোথায় গেলো? হিন্দুরা বলছে প্রায় ৫কোটি হিন্দুকে বিতাড়িত করা হয়েছে? (হিসাবটি এরকম: ১৯৭১ সালে ১কোটি হিন্দু ভারতে গেছে, দেশে বা এদিক-ওদিক হিসাবের বাইরে প্রায় ৫০লক্ষ হিন্দু, অর্থাৎ মোট দেড় কোটি হিন্দু ছিলো, ৫গুন্ বাড়লে তা দাঁড়াতো সাড়ে ৭কোটি, আছে ২কোটি (সরকারি হিসাবে ১কোটি ৪০লক্ষ), বাকিরা ভারতে। এছাড়া দেশের প্রায় ২কোটি মানুষ প্রবাসী, বিদেশে থাকেন।

 

তাহলে দাঁড়াল ১৭+৫+২=২৪কোটি। ৩৪-২৪=১০কোটি মানুষ গেলো কোথায়? সংখ্যাটি যদি আরো কমিয়ে ধরা হয়, অর্ধেক হলেও ৫/৬কোটি মানুষের হদিস নাই? এঁরা সবাই ভারতে গেছে? বা নেপালে? বাংলাদেশে মানুষ হারিয়ে গেছে, ভারতে মুসলমান হুহু করে বেড়েছে, এর মধ্যে যোগসূত্র আছে বটে? এ সময়ে ভারত বেশকিছু সংখ্যক বাংলাদেশীকে পুশব্যাক করেছে, বাংলাদেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বলেছে, এনিয়ে তাদের কিছু করার নেই? টিভিতে এসব ফিরে আসা মানুষগুলো সবিস্তারে জানাচ্ছেন বাংলাদেশে কোথায় তাদের বাড়ীঘর, কখন তাঁরা ভারতে যান, কেন থেকে গেছেন ইত্যাদি। কেউ কেউ বলতে চাইছেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা আসলে ১৭কোটির বেশি, প্রায় ২০কোটি। তাও যদি হয়, তবুও তো ৪/৫কোটি মানুষের খবর নাই, কেন? কারণ এঁরা সবাই ভারতে।

 

এ সময়ে এসআইআর বা এনআরসি’র ভয়ে কিছু অনুপ্রবেশকারী ফেরত গেছে, পশ্চিমবঙ্গের মিডিয়া, রাজনীতিকরা এতে বেজায় খুশি। কত মানুষ ফেরত গেছে এর কি কোন হিসাব আছে? ৫হাজার, ১০হাজার? শুনুন, প্রতিদিন ৫হাজার মানুষ ফেরত গেলে মাসে মাত্র দেড়লক্ষ, বছরে ১৮লক্ষ, ১০বছরে ১কোটি ৮০লক্ষ। সুতারং ভারত থেকে ৫/৬কোটি অনুপ্রবেশকারী ফেরত পাঠাতে কত সময় লাগবে? এটি কি সম্ভব? নিউটাউন বা কসবায় বস্তি উঠে গেছে দেখে ভাববেন না যে, ওরা ফেরত গেছে? ওরা ফেরত যায়নি, স্থানান্তর করেছে, কিছু অন্য রাজ্যে গেছে, কিছু নেপালে গেছে। এদের ফেরত পাঠানোর কাজটি এতটা সোজা নয়, এঁরা যাতে স্বেচ্ছায় ফেরত যায় সেই ব্যবস্থা করা উচিত এবং সেটি মানবিক হবে।

 

বৃটেন থেকে ৯০লক্ষ মুসলমান ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, পুরো ইউরোপে সেটি হবে, কারণ সবাই জেনে গেছে, ওঁরা শরণার্থী নয়, ওঁরা ‘শরিয়া’ কায়েম করতে এসেছে। এ সময়ে বিশ্বে ৩০% শরণার্থী মুসলমান, এঁরা সভ্য দেশে গিয়ে গণতন্ত্রের সুযোগ অপব্যবহার করে ঐসব দেশকে তাদের ফেলে যাওয়া ‘অসভ্য’ দেশে পরিণত করতে কাজে লেগে যায়। পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতে এদের লক্ষ্য একই, এবং ‘গাজোয়াতুল হিন্দ’ এখন আর গোপন কিছু নয়। সেই লক্ষ্যে জনবিস্ফোরণ ঘটিয়ে, গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে ওঁরা প্রথমে পশ্চিমবঙ্গ, এরপর আসাম, সেভেন-সিষ্টারের জনবিন্যাস পাল্টে, বা ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করে, বৃহত্তর ইসলামী খিলাফত কায়েমের লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি এখন বিরাট বাঁধা, এবং এজন্যেই এঁরা ভারত ও বিজেপি বিরোধী।

৬/৭/২৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here