তথ্যযুদ্ধ তিনপক্ষের কাছে গুরুত্ব পায় ট্রাম্পের হুমকি ও চুক্তির দাবি

0
2

ইরানে হামলার হুমকি বা পরিকল্পনা স্থগিত করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘কয়েকদিনের মধ্যেই একটি চুক্তি ঘোষণা করা হবে’। যুদ্ধ শুরু কিংবা অস্ত্রবিরতির পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট অসংখ্যবার এমন দাবি করেছেন। কিন্তু কোনোবারই তাঁর দেওয়া সময়সীমার মধ্যে চুক্তি হয়নি।

এমন অবস্থায় খোদ মার্কিন ও ইরানি গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এসব মন্তব্যে ভরসা না করার কথা উঠে এসেছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও অস্ট্রিয়ার সাবেক সামরিক কর্মকর্তা উলফগ্যাং পুসতাই-ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবিগুলোকে উড়িয়ে দিয়েছেন।

পুসতাই বলছেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের সব বক্তব্যকে আক্ষরিক অর্থে নেওয়া যাবে না। তাঁর এসব মন্তব্য মূলত তথ্যযুদ্ধের অংশ।’ আলজাজিরাকে তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের মূল লক্ষ্য তিনটি শ্রোতাগোষ্ঠী। তারা হলেন- রিপাবলিকান সমর্থক, আন্তর্জাতিক শেয়ার ও তেলের বাজার এবং ইরানের সরকার।

পুসতাইয়ের মতে, সামরিক পদক্ষেপের হুমকি এবং অবরোধ অব্যাহত রাখার কথা বলে ট্রাম্প ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছেন।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, গত দুই মাসে ট্রাম্প ৩৮ বার একটি চুক্তির কাছাকাছি থাকার দাবি করেছেন। সম্ভাব্য কোনো সমঝোতা নিয়ে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বলা পর্যন্ত ট্রাম্পের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের সবশেষ মন্তব্যের পর শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যায়। তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং অনুমোদনও পেয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ও স্থান শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শুক্রবার বলেছেন, তেহরান চুক্তি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। চুক্তির অধিকাংশ খসড়া চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু পরে যুক্তরাষ্ট্র নতুন দাবি তুলে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে। তখনই সমস্যার শুরু হয়।

সম্প্রতি ইরান ও ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়। তখনও ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীরা চূড়ান্ত পর্যায়ে আছেন।’ চুক্তি হতে কতদিন লাগতে পারে- এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন, দুই বা তিনদিন সময় লাগবে।

সিএনএন বলছে, গত এপ্রিলে যখন যুদ্ধবিরতি শুরু হয় তখনও ট্রাম্প বলেছিলেন, তারা চুক্তির বিষয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছেন। চূড়ান্ত হতে দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। তিনি আরও উল্লেখ করেছিলেন, দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা সমাধানের কাছাকাছি যেতে পারাটাও সম্মানের বিষয়।

ট্রাম্প চুক্তির কাছাকাছি থাকা সংক্রান্ত মন্তব্যগুলো সাধারণত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট, ভাষণ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপের সময় করেন। সিএনএন বলছে, অনবরত এমন দাবি করার পেছনে তিনটি কারণ থাকতে পারে। তিনি নিজে বিভ্রান্তির মধ্যে আছেন, আর্থিক বাজারকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছেন কিংবা অবাস্তব কিছুকে শুধু কথার জোরে বাস্তবে রূপ দিতে চাইছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here