আবারও লেবানন যুদ্ধে সিরিয়াকে জড়ানোর ইঙ্গিত, কী বলছেন শারা

0
4

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বন্ধে একদিকে সুইজারল্যান্ডে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, অন্যদিকে লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। এমন সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বলেছেন, ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহকে সামলানোর দায়িত্ব তিনি সিরিয়াকে দেবেন।

ট্রাম্প হিজবুল্লাহর তীব্র সমালোচনা করলেও, রোববার তিনি বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ও হিজবুল্লাহকে দ্রুত পরাজিত করতে না পারার জন্য ইসরায়েলকে দোষারোপ করেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘হিজবুল্লাহকে দমন করতে না পারায় আমি ইসরায়েলের ওপর হতাশ। তারা ভবন ধ্বংস না করে কিছুই করতে পারে না।’

এরপর হিজবুল্লাহবিরোধী লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বিষয়টি সিরিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়ার খুব কাছাকাছি অবস্থানে আছি।’ এর আগে ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলন চলার সময়ও ট্রাম্প সিরিয়াকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর দ্বিতীয় দফায় মন্তব্যের পর এক সাক্ষাৎকারে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা।

২০২৪ সালের শেষ দিকে ইরান ও হিজবুল্লাহর মিত্র হিসেবে পরিচিত বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার দায়িত্ব নেন শারা। বর্তমানে দেশ পুনর্গঠন ও শাসনের আন্তর্জাতিক বৈধতা অর্জনের চেষ্টা করছেন। আরব অঞ্চলভিত্তিক গণমাধ্যম আল মাশহাদকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শারা হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

শারা বলেছেন, লেবাননের সংকট অত্যন্ত গুরুতর এবং রাজনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সিরিয়া এটি সমাধানের জন্য ভিন্ন ধরনের একটি পদ্ধতি অবলম্বনের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তার আগে যুদ্ধ বন্ধ করাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আহমেদ শারা বলেন, লেবানন সংকটের সমাধান যুদ্ধ বা শহরগুলোতে বোমাবর্ষণের মাধ্যমে আসবে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাধান খোঁজার ক্ষেত্রে সিরিয়ার ভূমিকার কথা বলেছেন। কিন্তু অনেকে বিষয়টি এমনভাবে তুলে ধরছেন যেন, সিরিয়া আগামীকালই লেবাননে প্রবেশ করবে।

সমাধানের উপায় সম্পর্কে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা লেবানন ও সিরিয়ার মধ্যে সামরিক নয়, অর্থনৈতিক যোগাযোগের পথ খুঁজছি। বর্তমানে সেখানে যা ঘটছে তা থামাতে সৃজনশীল সমাধান প্রয়োজন। পুরোনো ও গতানুগতিক পদ্ধতিতে কাজ হবে না। লেবাননে সহায়তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং এমন একটি সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি যাতে সবাই আস্থা রাখতে পারে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here