আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে ফিল্ড মিল্ক পাউডারের (এফএমপি) ওপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক এবং ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই হার সমজাতীয় অন্যান্য গুঁড়া দুধের শুল্ক হারের চেয়ে অনেক বেশি। অন্যদিকে প্রস্তাবিত বাজেটে বেবি ফর্মুলার ওপর আমদানি শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সারাদেশে প্রায় ৮৮ শতাংশ পরিবার ফিল্ড মিল্ক পাউডার ব্যবহার করলেও, আমদানি শুল্ক ও অন্যান্য কর মিলিয়ে এর ওপর মোট করভার দাঁড়িয়েছে ৬৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। বাংলাদেশে সব ধরনের গুঁড়া দুধের ক্যাটেগরির মধ্যে এ ধরনের মিল্ক পাউডারের ওপরই করের হার সবচেয়ে বেশি। ফিল্ড মিল্ক পাউডারের আমদানি শুল্ক অন্যান্য গুঁড়া দুধের মতো হলে কর কাঠামোতে সামঞ্জস্য আসবে এবং বাজারে একটি সমতাভিত্তিক প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে।
ফিল্ড মিল্ক পাউডার কোনো বিলাসদ্রব্য বা কনফেকশনারি পণ্য নয়। বরং, এটি বাড়ন্ত শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের দৈনন্দিন প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় অনুপুষ্টি উপাদানের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে একটি অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। চলতি বছরের এপ্রিলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধি দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্যাটেগরির গুঁড়া দুধের শুল্ক কাঠামোর সমন্বয়ের বিষয়ে দুইপক্ষ একমত হয়।
বাংলাদেশে ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্সের (ইউরোচ্যাম) চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপদ ও সাশ্রয়ী দুগ্ধপণ্য সরবরাহের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফিল্ড মিল্ক পাউডারের শুল্ক কাঠামোয় সমন্বয় আনা গেলে অনিয়মভিত্তিক প্রতিযোগিতা কমবে, সরকারের রাজস্ব আহরণ আরও জোরদার হবে এবং দেশের দুগ্ধশিল্পের উন্নয়নে ইউরোপীয় বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, সব ধরনের দুগ্ধপণ্যের জন্য কাছাকাছি করহার নির্ধারণের সরকারি উদ্যোগ ইতিবাচক। ফলে দুধ আরও সাশ্রয়ী পুষ্টির উৎস হিসেবে মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) স্বাস্থ্যবিষয়ক লক্ষ্য অর্জনেও সহায়ক হবে।
শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মতো দেশে ফিল্ড মিল্ক পাউডার ও হোল মিল্ক পাউডার একই ধরনের শুল্ক কাঠামোর আওতায় রয়েছে। খাত-সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বাংলাদেশের শুল্ক কাঠামোয় সামঞ্জস্য আনা হলে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।




