রাজধানীর তুরাগের রানাভোলা এলাকায় বসবাস করতেন মো. সুমন (১৮) ও আরিফ হাসান রাকিব (২০)। দুজনই পরিবারের সঙ্গে সেখানে থাকতেন। দুই দিনের ব্যবধানে তুরাগ নদ থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গত শুক্রবার সুমনের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে আশুলিয়া থানার পুলিশ। ২২ জুন বাসা থেকে বের হন তিনি। তুরাগে লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি সুমনের বলে নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। সুমন কামারপাড়া আড়তে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন।
এর আগে বুধবার তুরাগ নদ থেকে আরিফ হাসানের লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। এ ঘটনায় আরিফের চাচা মো. আরশাদুল ইসলাম বাদী হয়ে অপমৃত্যুর মামলা করেছেন।
একই দিন দিয়াবাড়ী ঘাট থেকে রনি মোল্লা (৩৫) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে দুই দিনে তুরাগ থেকে মিলল তিনজনের লাশ।
গতকাল শনিবার রনির বাবা কফিল উদ্দিন মোল্লা সমকালকে জানান, তারা মনিপুরের মোল্লাপাড়া এলাকায় থাকেন। তাঁর ছেলে দিয়াবাড়ীতে একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করেন। তিনি শুনেছেন, ঘটনার দিন বাসায় ফেরার পথে দিয়াবাড়ী ঘাটে পরিচিত একজনের সঙ্গে গোসলে নামেন তাঁর ছেলে। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল না।’ রনির মৃত্যু ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
সুমনের পরিবারের সদস্যরা জানান, ‘সুমন আহমেদ চৌধুরী’ নামে তাঁর একটি ফেসবুক আইডি আছে। ছয় দিন আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি শোভাযাত্রার ভিডিও সেটিতে আপলোড করা হয়েছিল। গতকাল রাতে সুমনের ফেসবুক আইডিতে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন সময় দলীয় কার্যক্রমের ভিডিও আপলোড করা আছে।
সুমনের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ফেজবুক পেজ বা আইডি থেকে দাবি করা হয়, ‘তুরাগ থানা এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বের হওয়া মিছিলের পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মী ও আশুলিয়া পুলিশ ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যদের হামলার পর থেকে সাতজন নেতাকর্মী নিখোঁজ। তিন-চারজনের মরদেহ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হয়েছে।’
এদিকে গতকাল পুলিশ সদরদপ্তরের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘তুরাগ নদে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীর লাশ ভাসছে’– এমন শিরোনামে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম সমকালকে জানান, ২৫ জুন দিবাগত রাতে আশুলিয়া বাজারের পাশে তুরাগ নদে একজনের লাশ ভেসে উঠেছে– এমন খবর পায় পুলিশ। এর পর সেই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহত ব্যক্তির পরিবার মরদেহটি সুমনের বলে শনাক্ত করে।
দারুস সালাম থানা সূত্র জানায়, বুধবার তুরাগ নদ থেকে আরিফ হাসান নামের একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। তিনি তুরাগ থানার রানাভোলা এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় আরিফের চাচা মো. আরশাদুল ইসলাম বাদী হয়ে অপমৃত্যুর মামলা করেছেন।
আরিফের চাচা মো. আরশাদুল ইসলাম জানান, ২২ জুন সকালে দিকে বাসা থেকে বের হয় আরিফ। ওই দিন বিকেলে মোবাইলে মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। এর পর থেকে নিখোঁজ ছিল। বুধবার তুরাগ নদ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার হয়।




