এই দল কখনো হার মানে না: মেসি

0
4

ম্যাচের ৬৭ মিনিটে যখন ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা, তখন যেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায়ের ঘণ্টা বেজে উঠেছিল। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করেছেন লিওনেল মেসি, অন্যদিকে মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইরের একের পর এক দুর্দান্ত সেভে বারবার ব্যর্থ হচ্ছিল আলবিসেলেস্তেরা। কিন্তু এত প্রতিকূলতার মধ্যেও বিশ্বাস হারায়নি লিওনেল স্কালোনির দল। শেষ ১৩ মিনিটে তিন গোল করে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।

নাটকীয় এই জয়ের পর অধিনায়ক লিওনেল মেসিও তুলে ধরলেন দলের অদম্য মানসিকতার কথা। তিনি বলেন, ‘এটাই বিশ্বকাপ, আর এখানে প্রতিটি ম্যাচই একই রকম কঠিন। আমি খুবই আনন্দিত। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে এভাবে ম্যাচে ফিরে এসে জেতা মোটেও সহজ নয়। কিন্তু আমি সব সময়ই বলে এসেছি, এই দল কখনো হার মানে না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা লড়াই করে যাই। আমরা ভাগ্যবান ছিলাম, কারণ রোমেরোর গোলটা দ্রুতই পেয়েছিলাম। এতে ম্যাচে ফিরে আসার জন্য আমাদের যথেষ্ট সময় ছিল।’

ম্যাচটি মেসির জন্য ছিল আবেগের রোলার-কোস্টার। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করে দলকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছিলেন তিনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে সেই হতাশা ঝেড়ে ফেলেন নিজের চেনা জাদুতেই। ৭৯ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর গোলে অ্যাসিস্ট করেন মেসি। চার মিনিট পর, ৮৩তম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর থেকে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে নিজেই গোল করে ম্যাচে ২-২ সমতা ফেরান আর্জেন্টিনা।

এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলে নিশ্চিত হয় ৩–২ ব্যবধানের অবিশ্বাস্য জয়। কয়েক মিনিট আগেও যে দলটি বিদায়ের মুখে দাঁড়িয়ে ছিল, তারাই মুহূর্তের ব্যবধানে জায়গা করে নেয় কোয়ার্টার ফাইনালে।

ম্যাচ শেষে গ্যালারি ভরিয়ে দেওয়া আর্জেন্টাইন সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মেসি। তিনি বলেন, ‘আজ এই দল মাঠে যা করেছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। পুরো ম্যাচজুড়ে সমর্থকেরা আমাদের যেভাবে উৎসাহ দিয়েছে, তা আমাদের শক্তি জুগিয়েছে। মানুষ আমাদের খেলা উপভোগ করছে, দলের পাশে আছে। এটা আমাকে ভীষণ আনন্দ দেয়।’

অবিশ্বাস্য এই প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল আর্জেন্টিনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here