গ্যাসের মজুত কমছে, বিকল্প সীমিত

0
4

দেশে গ্যাসের মজুত ও উৎপাদন কমছে। এর প্রভাব পড়ছে শিল্প খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে। গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এতে সরকারের ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ বেড়েই চলেছে। সংকট মোকাবিলায় স্থল ও সমুদ্রে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান ও অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও বাস্তবায়নের গতি ধীর।

১৯৯৮ সালে বিবিয়ানায় গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার পর দেশে আর কোনো বড় গ্যাসক্ষেত্রের খোঁজ মেলেনি। কিছু ছোট ক্ষেত্র আবিষ্কার হলেও সেগুলোর মজুত দেশের চাহিদার তুলনায় কম। ইরান যুদ্ধের কারণে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি কিনতে হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে মোট গ্যাসের মজুত ছিল ১২ দশমিক ২৬ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট)। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ১৫ টিসিএফে। দেশে বর্তমানে গ্যাসক্ষেত্র ২৯টি। এর মধ্যে ২০টি থেকে নিয়মিত গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। চারটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলেও সেগুলোকে এখনও উৎপাদনে আনা যায়নি। বাকি পাঁচটি ক্ষেত্র দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদনে থাকা ২০টি গ্যাসক্ষেত্রে গত জানুয়ারিতে মজুত ছিল ছয় দশমিক ৩২১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। ছয় মাসের ব্যবধানে জুনে তা কমে প্রায় ছয় টিসিএফে নেমে এসেছে। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫৮ বিসিএফ গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে।

পরিত্যক্ত পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র– ছাতক, সাঙ্গু, ফেনী, কামতা ও রূপগঞ্জে এখনও প্রায় ৬৬১ বিসিএফ গ্যাস রয়েছে। জকিগঞ্জ ও কুতুবদিয়ায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় পাইপলাইন ও অবকাঠামোর অভাবে উৎপাদন শুরু করা যায়নি। আর ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে আনা সম্ভব হচ্ছে না। সেখানে প্রায় দুই টিসিএফ গ্যাস আছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানের কার্যকর মজুত দিয়ে সর্বোচ্চ আট বছরের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। গ্যাসক্ষেত্রে শেষ পর্যায়ে চাপ কমে যাওয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস মাটির নিচে রেখেই খনি বন্ধ করতে হয়। বাণিজ্যিক বিবেচনায় তা উত্তোলনযোগ্য নয়।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গত ২২ জুন সংসদে বলেন, সংকট মোকাবিলায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় থ্রিডি সিসমিক জরিপ চলছে ও নতুন জরিপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে দুটি নতুন ড্রিলিং রিগ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বড় দুই ক্ষেত্রে উৎপাদন কমায় উদ্বেগ বাড়ছে
গ্যাসের সামগ্রিক মজুত হ্রাসের পাশাপাশি উদ্বেগ বাড়ছে দেশের সবচেয়ে বড় দুই গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা ও তিতাসে উৎপাদন কমে যাওয়ায়। মার্কিন কোম্পানি শেভরন পরিচালিত বিবিয়ানা থেকে দেশের মোট গ্যাসের প্রায় অর্ধেক সরবরাহ হয়। কয়েক বছর আগে এখানে দৈনিক ১২০ থেকে ১৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হতো। বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ৮৫ কোটি ঘনফুটে। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ বিবিয়ানার উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।

একই রকম অবস্থা দেশের অন্যতম প্রাচীন গ্যাসক্ষেত্র তিতাসেও। পাঁচ বছর আগে যেখানে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেত, এখন তা ৩০ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে তিতাসের উত্তোলনযোগ্য মজুতের প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়ে গেছে।

ভরসা এলএনজি, বেড়েছে খরচ
দেশীয় উৎপাদনের ঘাটতি মেটাতে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা শুরু হয়। বর্তমানে দেশে গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৩০ শতাংশ আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। আমদানির কারণে দেশের ওপর আর্থিক চাপ দ্রুত বাড়ছে। পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় দুই লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

২০২৫ সালে ১০৯টি এলএনজি কার্গো আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকা। চলতি বছর ১১৫টি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এর বড় অংশ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার এবং ওমান থেকে আসার কথা। কিন্তু ইরান যুদ্ধের কারণে চাহিদা সামাল দিতে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি কিনতে হয়। এতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এলএনজি খাতে ভর্তুকি ছয় হাজার কোটি থেকে বেড়ে সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছায়।

ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক বদরূল ইমামের মতে, স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা এবং এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে এসেছেন। কিন্তু সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানকে গুরুত্ব না দিয়ে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়েছে। ফলে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা আসেনি।

উদ্যোগ আছে, অনুসন্ধানে গতি কম
গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে সরকার নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে। পেট্রোবাংলার কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ৫০টি এবং ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে আরও ১০০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও সংস্কার মিলিয়ে ৫০টি কূপের কাজ চলছে, যার মধ্যে ৩১টি পুরোনো কূপ সংস্কারে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তবে বাস্তব অগ্রগতি এখনও ধীর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্থলভাগে কিছু কাজ এগোলেও দীর্ঘদিন সমুদ্রে কার্যকর কোনো অনুসন্ধান হয়নি। ২০১২ ও ২০১৪ সালে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পর বঙ্গোপসাগরের ২৬টি ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলেও কোনো বিদেশি কোম্পানি চূড়ান্ত প্রস্তাব জমা দেয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় কোনো আন্তর্জাতিক কোম্পানি অনুসন্ধান চালাচ্ছে না।

এ অবস্থায় সম্প্রতি সংশোধিত উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তির (পিএসসি) আওতায় মোট ২৬টি ব্লকের জন্য আবারও আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে স্থল ও সমুদ্রে দ্রুত এবং ব্যাপক অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম তামিম সমকালকে বলেন, দেশের অধিকাংশ গ্যাসক্ষেত্রের আয়ু শেষের দিকে।  পেট্রোবাংলার উচিত আগ্রাসী পরিকল্পনা নেওয়া।  তারা স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি নানা পরিকল্পনা করছে। কিন্তু সেগুলো সেভাবে কার্যকর হচ্ছে না। কারণ খনন পদ্ধতি অনেক এগিয়ে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনও মান্ধাতার আমলের পদ্ধতিতে এগোচ্ছে।

ম তামিম বলেন, স্থলভাগের যেসব গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন কমে গেছে সেগুলোতে বিদেশি অভিজ্ঞ কোম্পানিকে কাজে লাগানো উচিত। দেশি আর বিদেশি কোম্পানির মধ্যে পার্থক্য দেশেই আছে। প্রায় সমান মজুত নিয়ে শেভরন বিবিয়ানা থেকে এক সময় ১২০-১৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করত। অন্যদিকে তিতাস গ্যাসক্ষেত্র থেকে মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ কোটি ঘনফুট মিলেছে। তিনি বলেন, আর্থিক সক্ষমতা থাকলেও চাইলে এলএনজির সরবরাহ বাড়ানো যাবে না। কারণ অবকাঠামো নেই। নতুন টার্মিনাল স্থাপনে চার থেকে আট বছর লাগবে। তাই স্বল্প মেয়াদে গ্যাস সংকটের সমাধানের জন্য স্থলভাগে আগ্রাসী অনুসন্ধান চালাতে হবে।

আমদানির ক্ষেত্রেও অবকাঠামো সংকট
সরকার গ্যাস আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়ন কঠিন হবে। কারণ এ জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। মহেশখালীতে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ঝুলে আছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিশেষ আইনে করা সামিট গ্রুপের চুক্তিটি ২০২৪ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করে। পরে এটি আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র বা জিটুজি মডেলে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়বদ্ধতা না চাপানোর নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত চুক্তি সই প্রক্রিয়াটি স্থগিত করা হয়।

একই সঙ্গে কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে দেশের প্রথম স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনালটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে বাস্তবায়নের জন্য পেট্রোবাংলা গত ২৮ জুন আন্তর্জাতিক আগ্রহপত্র প্রকাশ করেছে। দৈনিক ১০০ কোটি ঘনফুট হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষমতাসম্পন্ন এই টার্মিনালের জন্য ফিন্যান্সিয়াল ও টেকনিক্যাল কনসাল্ট্যান্ট নিয়োগের কাজ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।

এই খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, এখনই যদি এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয় তা শেষ করতে কয়েক বছর লাগবে। চুক্তির পর এফএসআরইউ স্থাপনে দুই বছর সময় লাগে। স্থলভাগের টার্মিনাল নির্মাণে ৭-৮ বছর সময় প্রয়োজন।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (পরিকল্পনা) আব্দুল মান্নান পাটোয়ারী বলেন, দেশে গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাপেক্সকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। সমুদ্রের ব্লক ইজারা দিতে দরপত্র ডাকা হয়েছে। এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে কাজ চলছে। সংস্থাটির পরিচালক (পিএসসি) জানান, সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান ডাকা দরপত্রে সময়সীমা আগামী নভেম্বর পর্যন্ত। এখন পর্যন্ত ৫টি কোম্পানি তথ্যউপাত্ত কিনেছে।

ধুঁকছে পোশাক শিল্পও
পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় তৈরি পোশাক, টেক্সটাইলের মতো শিল্পকারখানায় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। অনেক কারখানায় দিনের দীর্ঘ সময় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সময়মতো ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, যা রপ্তানি বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উৎপাদন সচল রাখতে অনেক উদ্যোক্তাকে ব্যয়বহুল বিকল্প জ্বালানি (ডিজেল, এলপিজি) ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সমকালকে বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে অনেক কারখানার উৎপাদন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে উৎপাদন খরচ প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে অনেক প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আদেশ বাতিল হচ্ছে, ব্যাংকঋণ পরিশোধে জটিলতা তৈরি হয়েছে। কিছু কারখানা উৎপাদন কমিয়ে দিতে বা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে।

গ্যাস সংযোগের অভাবে স্থবির বিনিয়োগ
দেশে গ্যাসের ঘাটতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতে। নতুন শিল্পকারখানা নির্মাণ শেষ হলেও গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আটকে আছে। গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে বর্তমানে প্রায় এক হাজার ৮০০টি শিল্পে গ্যাস সংযোগের আবেদন জমা রয়েছে। এর মধ্যে ডিমান্ড নোটের অর্থ পরিশোধ করেও চার-পাঁচ বছর ধরে অপেক্ষায় আছে অন্তত ৫৫০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। ফলে স্টিল, তৈরি পোশাক, সিমেন্টসহ বিভিন্ন খাতের অনেক কারখানা উৎপাদনে যেতে পারছে না। বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পাঞ্চলে অন্তত ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ অলস পড়ে আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গ্যাস সংযোগের অভাবে বেশি বিপাকে পড়েছে বড় বড় শিল্পগোষ্ঠী। সিটি গ্রুপের প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা, মেঘনা গ্রুপের ১৬ হাজার কোটি টাকা, আব্দুল মোনেম গ্রুপের পাঁচ হাজার কোটি টাকা এবং বসুন্ধরা, নিটল-নিলয়, টিকে ও আমান গ্রুপের কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রকল্প রয়েছে উৎপাদনের অপেক্ষায়। কারখানা চালু না হলেও ব্যাংকঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। ফলে বাড়ছে আর্থিক চাপ। মিরসরাই, জামালপুর, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও গ্যাস সংযোগের অভাবে বিনিয়োগের গতি থমকে আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here