জাহাঙ্গীর হত্যার নেপথ্যের কেউই রেহাই পাবে না: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী

0
2

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের মদদদাতাদেরও আইনের আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর মিঠামইন উপজেলা সদরের হেলিপ্যাড মাঠে জাহাঙ্গীরের দ্বিতীয় জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘জাহাঙ্গীরের খুনিদের পেছনে যাদের মদদ রয়েছে এবং যাদের ইশারায় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তাদের কেউই রেহাই পাবে না। তবে নিরপরাধ কোনো মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর দীর্ঘ ১৭ বছর নানা প্রতিকূলতার মধ্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করে বিএনপিকে সংগঠিত করেছেন। তাঁর মতো নেতৃত্ব মিঠামইনে আর সহজে সৃষ্টি হবে না।

তিনি জানান, মিঠামইনে আসার পথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ তাঁকে ফোন করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ তৎপর থাকার নির্দেশনার কথা জানিয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত জনতার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের গডফাদারদের শনাক্ত করতে সবাইকে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে।

জানাজায় অংশ নিয়ে কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, জাহাঙ্গীরকে ভাড়াটে খুনির হাতে এভাবে প্রাণ দিতে হবে, তা তিনি কখনও ভাবেননি। তিনি ছিলেন তাঁর অত্যন্ত আস্থাভাজন নেতা। এ শূন্যতা সহজে পূরণ হবে না। হত্যাকারীদের বিচারে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, জাহাঙ্গীর হত্যার খবর শুনে সারারাত ঘুমাতে পারেননি। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘১৭ বছর ধরে যিনি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়ে বিএনপিকে ধরে রেখেছেন, তাঁর মতো মানুষ আর হবে না।’ বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে বলেন, ‘জাহাঙ্গীর হত্যার বিচার এবং খুনিদের ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত শান্তি নেই।’

এ সময় আরও বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন রুবেল, পিপি শাহ কামাল, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামাল মিয়া, অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাঈদ হোসেন, অ্যাডভোকেট সায়েম মজুমদার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিয়া, জেলা বিএনপির সদস্য আলমগীর শিকদার, নিহতের বড় ভাই শাহেরীল আলম তপন, বাহার মিয়া এবং নিহতের চাচা অ্যাডভোকেট ফরিদ আহমেদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মোহাম্মদ কামাল পাশা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ শহরের শহীদী মসজিদ প্রাঙ্গণে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here