ভারতে ছড়িয়ে পড়ছে তরুণদের আন্দোলন, চাপে মোদি সরকার শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগের আশ্বাস দিলে অনশন ভাঙবেন ওয়াংচুক

0
10

ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের আন্দোলন এবার দিল্লি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন রাজ্যে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে চলমান এই বিক্ষোভ নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। নির্দিষ্ট কোনো পরিচয়ের গণ্ডিতে আটকে না থেকে, শ্রেণি-ধর্ম-অঞ্চল নির্বিশেষে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই আন্দোলন এক সর্বভারতীয় রূপ নিচ্ছে।

এএফপির খবরে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লির পাশাপাশি গতকাল বুধবার মহারাষ্ট্রের মুম্বাই, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু, বিহারের পাটনা এবং মিজোরামেও বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। পাটনায় শিক্ষার্থীদের মিছিলে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল ও জলকামান ব্যবহার করেছে। তবে সব বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা দিল্লির যন্তর মন্তর আঁকড়ে ধরে রেখেছেন।

সংসদের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস শিক্ষার্থীদের সমর্থনে মাঠে নেমেছে। গত মঙ্গলবার রাতে আটক এবং পরে ছাড়া পাওয়ার পর গতকাল সংসদে কালো পোশাক পরে আসেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।

সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করে রাহুল বলেন, ‘বিগত এক দশকে ১৫৪টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, অথচ একটিতেও শাস্তি হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উচিত শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া।’ তিনি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন।

হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেন। তবে সামাজিক মাধ্যমে গড়ে ওঠা দলটি কোনো মন্ত্রীর কার্যালয়ে বা বাসভবনে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ‘আমরা কোনো মন্ত্রীর কার্যালয় বা বাসভবনে যাব না। যন্তর মন্তরের মতো কোনো নিরপেক্ষ স্থানে এই আলোচনা হতে হবে।’

এদিকে, আন্দোলনকারী অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুককে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়েছেন বিরোধী নেতারা। চিকিৎসাধীন ওয়াংচুক চিঠিতে জানান, সরকার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রতিশ্রুতির মুচলেকা দিলে তিনি অনশন ভাঙবেন।

পুলিশের মারধরের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে দুটি পৃথক রিট আবেদন করা হয়েছে। আদালত কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের জবাব চেয়ে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

রাজনৈতিক চাপে মোদি 
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর এটিই তাঁর প্রশাসনের মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে বড় ও ব্যতিক্রমী যুব আন্দোলন। মোদি সরকার এর আগে যেসব বড় আন্দোলনের মুখোমুখি হয়েছিল, সেগুলোকে নির্দিষ্ট একটি পরিচয়ে চিহ্নিত করা গেছে।

কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বেকারত্বকেন্দ্রিক এই লড়াই দেশের দুই কোটিরও বেশি পরীক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের অস্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত। এ আন্দোলন জাত, ধর্ম, অঞ্চল বা ভাষার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক নীলঞ্জন মুখোপাধ্যায় এএফপিকে বলেন, ‘সরকার এই আন্দোলনকে কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর আন্দোলন বলে চালিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। আবার শিক্ষামন্ত্রীকে এখনই সরিয়ে দিলে সরকার নতিস্বীকার করেছে বলে মনে হবে, যা মোদির রাজনৈতিক ভাবমূর্তির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।’

যন্তর মন্তরে ‘ককরোচদের’ লড়াই
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, আটক ও নির্যাতনের পরও শিক্ষার্থীরা ভয় না পেয়ে যন্তর মন্তরে ফিরে আসছেন। ১৯ বছর বয়সী আন্দোলনকারী পূজা কুশি বলেন, ‘সরকার আমাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে।’

আরেক আন্দোলনকারী সীমা যাদব জানান, ২০ জন পুলিশ সদস্য তাঁকে ও তাঁর মেয়েকে আলাদা করে এক কিলোমিটার টেনে নিয়ে যায়। তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তবুও কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে তারা সরাসরি আবার আন্দোলনের ময়দানে ফিরে এসেছেন।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যের পর রূপক হিসেবে ককরোচ জনতা পার্টি গঠন করেছিলেন। এই তেলাপোকা রূপকটি ভারতীয় যুবসমাজের টিকে থাকার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here