ময়মনসিংহে স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের জেরে এক যুবককে গলা কেটে হত্যার পর মাথা ও দেহ আলাদা করে মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনার মূলহোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, কোতোয়ালী থানার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে সেলিম (৩০), আব্দুল রশিদের ছেলে সেলিম (৩২), রমজান আলীর ছেলে আব্দুল কাদির ওরফে আলামিন (২৫) ও আব্দুল জলিলের ছেলে লাল চাঁন ওরফে লালু (২৬)। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) আশরাফুল করিম।
পুলিশ জানায়, ১৬ জুলাই সকালে মীরকান্দাপাড়া গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে সোহেল সরকার (২৫) বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ২২ জুলাই বিকেলে অম্বিকাগঞ্জ মহাবিদ্যালয় মাঠের উত্তর পাশের একটি বাগানে অর্ধগলিত বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটির নিচ থেকে মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে। পোশাক ও শারীরিক গঠন দেখে স্বজনরা মরদেহটি নিখোঁজ সোহেল সরকারের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা নূরুল ইসলাম বাদী হয়ে শনিবার কোতোয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই দিন রাতে ভালুকার আঙ্গারগাড়া এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারবাজার, মীরকান্দাপাড়া ও শহরের মহারাজা রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রধান অভিযুক্ত সেলিম পুলিশকে জানান, তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সোহেল সরকারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় তিন মাস ধরে তারা ঢাকায় একসঙ্গে বসবাস করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। পরে কৌশলে সোহেলকে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে ডেকে এনে সহযোগীদের নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে মাথা ও দেহ আলাদা করে মাটিচাপা দেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো দা, কোদাল এবং নিহতের রক্তমাখা পোশাক ও স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল করিম সমকালকে বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।




