ভারতে আন্দোলন পদত্যাগ নিয়ে পর্দার আড়ালে ৪৮ ঘণ্টায় কী ঘটেছিল?

0
4

আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টা আগেও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়টি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ভাবনাতেও ছিল না। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে হওয়া তিনটি মূল্যায়ন সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে বলে মনে হচ্ছে।

প্রথমত, পুলিশের কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও দিল্লিতে বিক্ষোভ আরও জোরদার এবং অনেক শহরে ছড়িয়ে পড়ছিল। দ্বিতীয়ত, সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ যেমন- শিক্ষা সচিবের বদলি, ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট, প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিল এমনকি নিট পরীক্ষা পরিচালনার সংস্থা এনটিএ-এর ৪৭ কর্মকর্তাকে বরখাস্তের ঘটনাও বিক্ষোভকারীদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি।

তৃতীয়ত, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন পুরোপুরি পণ্ড হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। এবারের অধিবেশনে সীমানা পুনর্বিন্যাস এবং নারী সংরক্ষণ বিলের মতো বিতর্কিত পদক্ষেপগুলো সংসদে তোলার কথা ছিল। এগুলোর পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য বিজেপিকে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়। ফলে অধিবেশন পণ্ড হলে এসব চেষ্টা ব্যর্থ হতে পারতো।

ভারতের সদ্য সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। ফাইল ছবি: এএফপি

ভারতের সদ্য সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। ফাইল ছবি: এএফপি

ভারতে সাপ্তাহিক কর্মদিবস শুরুর প্রথম দিন (গত সোমবার) অনশনরত অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুককে যন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সরকার তখন ধারণা করেছিল, এবার হয়তো বিক্ষোভ ধীরে ধীরে থেমে যাবে। কিন্তু এই ধারণা বদলাতে খুব বেশি সময় লাগেনি।

বিজেপির একজন এমপি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরাসরি পরিস্থিতি সামলানোর দায়িত্ব নেন। তিনি তরুণদের উদ্দেশে ভিডিও বার্তা দেওয়ার পর সেটির প্রতিক্রিয়াগুলো গভীরভাবে যাচাই করা হয়। তাতে দেখা যায়, যন্তর মন্তরের পাশাপাশি অন্য রাজ্যের আন্দোলনেও মানুষের ভিড় বেড়েছে। এমনকি মুম্বাইয়ে নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মামলা সত্ত্বেও উপস্থিতি কমেনি।

বিজেপির এক শীর্ষস্থানীয় সূত্র জানায়, নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পর শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি মানুষের মনোভাব পরিবর্তন হচ্ছিল না। হাতে বেশি বিকল্পও ছিল না। কিন্তু তখনও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি সংসদে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। যদি পদত্যাগের বিষয়ে একটুও ইঙ্গিত পেতেন তাহলে হয়তো এই প্রস্তুতি নিতেন না।

সূত্রটি জানায়, এ থেকে বোঝা যায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের সিদ্ধান্তটি খুবই অল্প সময়ের মধ্যে নেওয়া হয়েছে। কারণ শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনোভাবেই বোঝা যাচ্ছিল না যে পদত্যাগ আসন্ন।

সিজেপি নেতাদের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন কেন্দ্রের দুই মন্ত্রী। ছবি: এএফপি

সিজেপি নেতাদের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন কেন্দ্রের দুই মন্ত্রী। ছবি: এএফপি

তরুণদের আন্দোলন চলাকালে বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদির সরকার প্রকাশ্যে যুক্তি দিয়েছিল যে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিটি মূলত রাজনৈতিক। দলের নেতাদের আশঙ্কা ছিল, দাবি মেনে নেওয়া হলে বিরোধীরা এটিকে রাহুল গান্ধীর নৈতিক জয় হিসেবে প্রচার করবে। সূত্রগুলো জানায়, এমন ভাবনা সত্ত্বেও আন্দোলনের তীব্রতার কারণে বিজেপির মধ্যে সুর নরম হতে শুরু করে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে কথা বলা দুজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, একটা সময় ধর্মেন্দ্রর দপ্তর ছাড়ার বিষয়ে কথা ওঠে। রাজ্যের কিছু নেতাও বলতে শুরু করেন, এই অবস্থায় পদ ধরে রাখাটা অবাস্তব হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে ককরোচ জনতা পার্টিও (সিজেপি) দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর বা জাতীয় পরিসরে বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ফলে পরিস্থিতি তখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

ফলে অল্প সময়ের সিদ্ধান্তে শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here