দেশে হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্টেন্ট, ভাল্ভ, পেসমেকারসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানি ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দ্য স্পন্দন লিমিটেডের মালিকানা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরোধ আদালতে গড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক কাজী মকবুল হোসেনের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী ও ছেলে কোম্পানির ৪৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক এবং পরিচালক হলেও আট বছর ধরে লভ্যাংশ পাচ্ছেন না। বিষয়টির সুরাহা চেয়ে হাইকোর্টের কোম্পানি কোর্টে মামলা করেছেন তারা।
মামলায় আর্থিক তথ্য গোপন, বাধ্যতামূলক অডিট ও বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করা, কোম্পানির অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া এবং ব্যবসা অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত কোম্পানির তহবিল অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের ওপর তিন মাসের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।
১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত দ্য স্পন্দন লিমিটেডের বিনিয়োগ ১০০ কোটি টাকার বেশি। প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক কাজী মকবুল হোসেন ২০১৮ সালে মারা গেলে স্ত্রী শারমিন হোসেন ও ছেলে কাজী আকরাম হোসেন উত্তরাধিকার সূত্রে কোম্পানির পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডার হন। তাদের হাতে প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং অপর প্রতিষ্ঠাতা বিনিয়োগকারী আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলে সাদ রহমানের হাতে প্রায় ৫৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
শারমিন হোসেন ও কাজী আকরাম হোসেনের অভিযোগ, ২০১৮ সালের পর থেকে তাদের কার্যত কোম্পানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। শুরুতে কিছু সম্মানি দেওয়া হলেও ২০২৫ সালে সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ অভিযোগে তারা গত ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের কোম্পানি কোর্টে মামলা করেন। মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানির বাধ্যতামূলক আইনগত নিরীক্ষা (স্ট্যাচুটরি অডিট) সম্পন্ন হয়নি। পরিচালকদের কাছে আর্থিক বিবরণী, ব্যাংক হিসাব, লেনদেনের তথ্য কিংবা লভ্যাংশ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। পরিচালকদের সম্মতি ছাড়াই পরিচালক নিয়োগ এবং কোম্পানির অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে স্থানান্তরের অভিযোগও করা হয়েছে।
শারমিন হোসেন অভিযোগ করেন, অংশীদারদের সম্মতি ছাড়া শেয়ার হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে আনিসুর রহমান বলেন, কোম্পানি থেকে তারাও লভ্যাংশ নেন না, শুধু কিছু সম্মানি নিতেন। ২০২৫ সালের পর সেটিও বন্ধ রয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমানে ব্যবসা লোকসানে রয়েছে।




