সমঝোতায় পৌঁছাতে এটি ইরানের ‘শেষ সুযোগ’: ট্রাম্প

0
3

ইরানের সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাতে না গিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতে চান বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য এটি ইরানের ‘শেষ সুযোগ’। অন্যথায় দেশটিকে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

হোয়াইট হাউসে সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ পারস্য উপসাগরীয় কয়েকটি মিত্র দেশের অনুরোধে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলা স্থগিত রেখে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে একটি সমঝোতার কাঠামোও প্রস্তুত রয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এ দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না। যদিও ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ‘ইরান স্বীকার করুক বা না করুক, বহু বছর ধরে চলা এই সংকটের সমাধান নিয়ে আমরা বাস্তবেই আলোচনা করছি।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এটি তাদের জন্য একটি ভালো চুক্তিতে পৌঁছানোর শেষ সুযোগ। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগে আমি শেষবারের মতো তাদের সুযোগ দিতে চাই।’

ট্রাম্প জানান, আলোচনায় দুটি বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। একটি হলো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী আবার উন্মুক্ত করা, অন্যটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত বা নিরস্ত্রীকরণ।

এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ নৌযান চলাচল নিশ্চিত করতে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে ইরান। তবে ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, সমঝোতা হলেও এখনই প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাঁর ভাষায়, দুই দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা বিবেচনায় একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের দিকে এগোচ্ছে আলোচনা।

এরই মধ্যে ওমান উপকূলসংলগ্ন হরমুজ প্রণালীতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও। হামলায় হতাহতের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। ঘটনাটি তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সৌদি মালিকানাধীন ছয়টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আফ্রিকা ঘুরে বিকল্প পথে চলাচল শুরু করেছে। হুথিরা সতর্ক করে দিয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী সৌদি জাহাজগুলোকে তারা লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধ বহাল থাকবে। কোনো চুক্তি না হলে বা ইরান অবস্থান পরিবর্তন না করলে দেশটিতে প্রয়োজনীয় পণ্যও পৌঁছাতে দেওয়া হবে না।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। মাঝেমধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের কথা শোনা গেলেও সংঘাত পুরোপুরি থামেনি। পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরান বরাবরের মতোই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। খবর- সিএনএন ও এএফপি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here