ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা দুই হলের নিয়ন্ত্রণে ছাত্রদল, ফেরেনি ছাত্রশিবির

0
9

ঢাকার সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার (আলিয়া মাদ্রাসা) আল্লামা কাশগারী (রহ.) হলের মূল ফটকে তালা ঝুলছে। সামনে পুলিশ অবস্থান করছে। তিনতলা আবাসিক হলের কোনো কোনো কক্ষের জানালার কাচ ভাঙা। গত মঙ্গলবার ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের পর বন্ধ রয়েছে মাদ্রাসাটির ক্যাম্পাস ও আবাসিক হল। তবে ভেতরে কয়েকজন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। তাদের অধিকাংশই ছাত্রদলের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আলিয়া মাদ্রাসার আল্লামা কাশগারী (রহ.) হলে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে। মুফতি আহসান উল্লাহ হলেও একই দৃশ্য। ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হলের পাহারায় রয়েছেন। ছাত্রদলের দাবি, দুটি হলই তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সংঘর্ষে গত মঙ্গলবার রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল মাদ্রাসাটির আল্লামা কাশগারী (রহ.) হল। একপর্যায়ে শিবিরের নেতাকর্মীরা পিছু হটেন। তাদের কেউ এখনও হলে ফিরে আসেননি। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হলে যাওয়া-আসা করতে দেখা গেছে।

ঢাকা আলিয়ায় আবাসিক হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার সকাল থেকেই ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে কয়েকশ নেতাকর্মী হলে ঢোকেন। তবে এর আগেই হল ছাড়েন শিবির কর্মীরা। শিবিরের দখলে থাকা হলের বেশ কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুর করা হয়। এ সময় সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল হককে বেধড়ক মারধর করা হয়। ছাত্রদলের ১৪ জন ও শিবিরের ১১ জন আহত হন বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে দেখা গেছে, হলের বাইরের ফটক খোলা। ফটক থেকে ভেতরে ঢুকতেই হলের মূল ফটক। ওই ফটকে তালা মারা। এর সামনেই বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য বসে আছেন। বাইরে থেকে কেউ ভেতরে ঢুকলে পরিচয় জানতে চাচ্ছেন। বাইরে থেকে বেশ কয়েকটি কক্ষের জানালার কাচ ভাঙা দেখা যায়। প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করলে সেখানে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়। তাদের কেউ কেউ এসেছেন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিতে। কেউ অনার্সের পরীক্ষার প্রবেশপত্র নিতে এসেছেন।

মাদ্রাসার তৃতীয় বর্ষের স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষার প্রবেশপত্র নিতে আসা জিহাদ সমকালকে বলেন, ‘গত পরশু দিন সংঘর্ষের সময় হলে ছিলাম না। তাই সবকিছু হলেই ছিল। শনিবার আমার তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা। তাই অ্যাডমিট কার্ড নিতে আসছি। হলের বাইরে থাকি।’

হলের ফটকে দায়িত্বরত চকবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হাসান সমকালকে বলেন, কিছু শিক্ষার্থী ভেতরে আগে থেকেই ছিলেন। এ ছাড়া কিছু শিক্ষার্থী হলের ভেতরে ঢুকছেন যারা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস নিতে আসছেন। অনেকের পরীক্ষা আছে। তবে হলের শিক্ষার্থী ছাড়া কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনতলা ভবনের হলটিতে শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য ৭৪টি কক্ষ রয়েছে। এসব কক্ষে ৩১২টি বৈধ সিট আছে। সেখানে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী থাকেন। মঙ্গলবার ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের বেশ কিছু কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয়। দুই দফায় সংঘর্ষের পর শিবিরের নেতাকর্মীরা হল ত্যাগ করেন।

মূল ফটকের ভেতরে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দেখা যায়। তারা বলেন, ভেতরে কিছু শিক্ষার্থী এখনও রয়েছেন। তাদের অন্য কোথাও থাকার জায়গা নেই। আলী হাসান ওবামা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি কোথাও যাইনি। হলেই থাকছি।’

ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীও হলে অবস্থান করছেন। এ সময় সাদ চৌধুরী নামের ছাত্রদলের এক নেতাকে হলের ভেতরে যেতে দেখা যায়। তারা সেখানে অবস্থান করেন। হলের ‎নিরাপত্তাকর্মী বদিউর রহমান সমকালকে বলেন, ছাত্রদল যারা করে তাদের কিছু লোক নিজেরাই এসে হলের ভেতরে প্রবেশ করছেন।

মাদ্রাসাটির শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি আব্দুল আলীম সমকালকে বলেন, ‘এটা দুই পক্ষের মধ্যে সিট দখলের কোনো সংঘর্ষ ছিল না। যুবদল ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পরিকল্পিত হামলা ছিল। দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে তাদের লোকজন ধাওয়া খেয়েছে। সেটারই প্রতিফলন ছিল আমাদের ওপর হামলা করা। এতে ১১ জন আহত হন। দুজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’ কক্ষ ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ধাওয়া দিয়েছে, তখন আমরা পাল্টা ধাওয়া দিয়েছি। আমরা হলের ভেতরে যেতে পারিনি, কক্ষ ভাঙচুর করিনি।’

আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদলের বর্তমানে কমিটি নেই। তবে আসন্ন কমিটিতে পদ পেতে অনেকে তৎপর। মাদ্রাসাটির আবাসিক হলের অবস্থা জানতে চাইলে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রত্যাশী সাদ চৌধুরী সমকালকে বলেন, ‘চব্বিশের ৫ আগস্টের পর বারবার আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমাদের লোকবল কমছিল। তাই আমাদের কিছু করার ছিল না। গত মঙ্গলবার শিবির কর্মীরা যখন বহিরাগতদের নিয়ে এসে ক্যাম্পাসে আমাদের ওপর হামলা করেন। মিডিয়ায় এই দৃশ্য দেখে আমাদের বড় ভাইয়েরা এগিয়ে আসেন। তখন শিবিরকর্মীরা পালিয়ে যান। হল এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। সেদিনের হামলায় আহত ছাত্রদলের অন্তত ১৪ জন এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here