এনসিপির হুঁশিয়ারি মাফিয়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আঁতাত মেনে নেওয়া হবে না

0
6

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মতো রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত জরুরি খাতকে কোনো অবস্থাতেই মাফিয়া বা লুটেরা ব্যবসায়ীদের মুনাফা লোটার হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গতকাল সোমবার এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন এক বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি দেন।

ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তারা বলেন, ‘মাফিয়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে রাতের অন্ধকারে আঁতাত কিংবা জনগণের সম্পদ নিয়ে যে কোনো গোপন রফা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে এই আত্মঘাতী বেসরকারীকরণ নীতি ও অপপ্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের হাতেই এই খাতের পূর্ণ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ জ্বালানি খাতকে চিহ্নিত মাফিয়া ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিয়ে রাষ্ট্র ও জনগণকে জিম্মি করার এক গভীর দেশবিরোধী অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উন্মোচিত হয়েছে, কীভাবে আইনি বাধ্যবাধকতা ও রাষ্ট্রীয় নিয়মকানুনকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে, ঋণ জালিয়াতি, ব্যাংক লুটপাট ও অর্থ পাচারের দায়ে অভিযুক্ত একটি বিতর্কিত মাফিয়া ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে জাতীয় পেট্রোলিয়াম বাণিজ্যের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণের চাবি তুলে দেওয়ার তোড়জোড় চলছে। দেশের জ্বালানি সার্বভৌমত্ব নিয়ে যে কোনো চক্রান্ত জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোরভাবে রুখে দেওয়া হবে।

মাফিয়াদের হাতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা তুলে দেওয়ার এই ষড়যন্ত্র ফ্যাসিবাদী শাসনের সেই পুরোনো এবং অন্ধকার মডেলেরই পুনরাবৃত্তি বলে মন্তব্য করেন নেতারা। তারা বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার যেভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে বিশেষ সুবিধাভোগী মাফিয়াদের হাতে তুলে দিয়ে দেশকে দেউলিয়া এবং লুটেরাদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিল, আজও সেই একই বিপজ্জনক প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়নের অপচেষ্টা করা হচ্ছে। বিগত দিনে কুইক রেন্টালের নামে ও ‘দায়মুক্তি আইনের’ সুযোগ নিয়ে ইচ্ছামতো বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ এবং ক্যাপাসিটি চার্জের মাধ্যমে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়ে বিদেশে পাচারের মচ্ছব চালানো হয়েছে। এখন আবার জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত জ্বালানি খাতকেও একই মাফিয়াতন্ত্রের শিকারে পরিণত করার নীলনকশা আঁকা হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মাত্র দুই দিনের সময় বেঁধে দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন, বিপিসির চেয়ারম্যানকে অপসারণ এবং মাত্র চার দিনে নীতিমালার খসড়া তৈরি করার মতো নজিরবিহীন তাড়াহুড়া প্রমাণ করে এটি কোনো সাধারণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং মাফিয়া ব্যবসায়ী তোষণের নগ্ন চক্রান্ত। আমদানিনির্ভর ও চরম কৌশলগত এই জ্বালানি খাতে বিপিসি নিজস্ব শোধন, সংরক্ষণ ও বিপণন সক্ষমতা বৃদ্ধি না করে, উল্টো গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত মাফিয়া গোষ্ঠীর হাতে বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়া চরম জনস্বার্থবিরোধী।

এনসিপি বলেছে, এলপিজি খাতকে বেসরকারি আমদানিকারকদের হাতে তুলে দিয়ে মাফিয়া সিন্ডিকেটের কাছে সাধারণ জনগণকে যেভাবে জিম্মি করা হয়েছিল, ঠিক একই কৌশলে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের মতো জরুরি জ্বালানির সরবরাহ ও দর নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা মাফিয়াদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ শাসনামলে বেসরকারি খাতের হাতে ছেড়ে দিয়ে লুটপাটের যে সাম্রাজ্য গড়ে তোলা হয়েছিল, সেখান থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে বের করে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান নেতারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here