ইরানের হামলার হুমকিতে তুরস্ক থেকে গোপনে বিমান বদলের কথা নিশ্চিত করলেন ট্রাম্প

0
4

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গত মাসে ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্ক ছাড়ার সময় সম্ভাব্য ইরানি হামলার আশঙ্কায় তিনি গোপনে বিমান বদলেছিলেন। মার্কিন নিরাপত্তা ও সামরিক কর্মকর্তাদের পরামর্শেই তাকে অন্য একটি বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

মঙ্গলবার ওহাইওতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনী আমাকে অন্য ফ্লাইট, অন্য বিমানে যেতে বলেছিল। আমাকে তাদের কথাই মানতে হয়।’ তবে কোন ধরনের হুমকি ছিল, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানতে চাননি বলে জানান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৮ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা থেকে ট্রাম্পের যুক্তরাজ্যে যাওয়ার কথা ছিল। তিনি প্রকাশ্যে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন। টেলিভিশন ক্যামেরার সামনেই তাঁকে বিমানে উঠতে দেখা যায়। কিন্তু পরে জানা যায়, এটি ছিল একটি বিভ্রান্তিমূলক ব্যবস্থা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পকে একটি ক্যাটারিং ট্রাকের মাধ্যমে গোপনে বিমান থেকে বের করে ছোট একটি সামরিক বিমান সি৩২-এ-তে নেওয়া হয়। ওই বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। ট্রাম্পের প্রকৃত বিমানটি কলসাইন ব্যবহার করে উড্ডয়ন করে। অন্যদিকে সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মীকে নিয়ে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান এএফ১ কলসাইন ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে যাত্রা করে।

মার্কিন কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে জানিয়েছেন, ট্রাম্পকে বহনকারী বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশ্বাসযোগ্য ইরানি হুমকি শনাক্ত করেছিল। এ কারণে প্রেসিডেন্টকে গোপনে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

তবে ট্রাম্প বলেছেন, শেষ পর্যন্ত তিনি যে সামরিক বিমানে উঠেছিলেন, সেটিই সম্ভবত ‘আরও বেশি ঝুঁকির’ মধ্যে ছিল। তার ভাষায়, ‘আমি অনেক হুমকি পাই, যেগুলো আপনারা জানেন না।’

এদিকে পুরো ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্পকে সরিয়ে নেওয়ার পর যে বিমানে সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কর্মীরা ছিলেন, সেটিকে কেন বিভ্রান্তিমূলক বিমান হিসেবে ব্যবহার করা হলো। তাঁদের অনেকেই জানতেন না যে প্রেসিডেন্ট আর ওই বিমানে নেই।

বিমানটিতে থাকা সাংবাদিকদের জানানো হয়েছিল, তারা যেন জানালার পর্দা নামিয়ে রাখেন। হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ নির্দেশ সাংবাদিকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছিল। একজন ফটোগ্রাফার অল্প সময়ের জন্য জানালার পর্দা তুললে তাকে দ্রুত তা নামিয়ে দিতে বলা হয়।

এর আগে তুরস্ক ছাড়ার সময় সাংবাদিকেরা ট্রাম্পকে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখেছিলেন। তখন ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘পুরোনো দিনের কথা মনে করতেই’ তিনি ওই বিমানে যাচ্ছেন। পরে জানা যায়, সেটিও ছিল নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছিল, যখন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা তীব্র ছিল। ট্রাম্প আগেও বলেছিলেন, ইরানের কাছে তিনি ‘এক নম্বর লক্ষ্য’। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি থাকলে সাংবাদিকদের তা জানানো উচিত, যাতে তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here