ঘুম ওঠার পর কারও কারও রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। খাবার না খেতেই কেন রক্তে শর্করার মাত্রা এভাবে বেড়ে যায় তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন আছে। ‘নিউজ এইট্টিনে’র এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে নানা তথ্য। যেমন-
চিনিযুক্ত চা দিয়ে দিন শুরু করা
প্রথম যে জিনিসটি নীরবে আমাদের ক্ষতি করে তা হলো কড়া, চিনিযুক্ত চা, যা আমরা অনেকেই ঘুম থেকে ওঠার সাথে সাথেই পান করি। খালি পেটে যখন হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করার জন্য কোনো প্রোটিন বা ফাইবার থাকে না, সেই চিনি দ্রুত রক্তে মিশে যেতে পারে। যার ইনসুলিন ইতিমধ্যেই ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না, তার ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা দিনের অন্য সময়ের তুলনায় দ্রুত বাড়তে পারে এবং বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারে।
ঘুম থেকে ওঠার পর সক্রিয় না থাকা
দ্বিতীয় ভুলটি হলো ঘুম থেকে ওঠার প্রথম কয়েক ঘণ্টায় পুরোপুরি সক্রিয় না থাকা। পেশি হলো শরীরের গ্লুকোজের সবচেয়ে বড় ভোক্তা। যারা একটুও না হাঁটাহাটি করে ঘর থেকে সোজা গিয়ে অফিসের ডেস্কে বসে কাজ শুরু করে তারা গ্লুকোজের এই উৎসটিকে নিস্ক্রিয় করে রাখে। ঠিক সেই সময়েই কর্টিসল, যা সকালে স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়, রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে তোলে। তাই, ঘুম থেকে ওঠার পর অল্প একটু হাঁটা বা হালকা নড়াচড়া করা শরীরকে নিষ্ক্রিয় না রেখে গ্লুকোজ ব্যবহারে উৎসাহিত করার সহজ উপায় হতে পারে।
ভুল নাশতা দিয়ে দিন শুরু
পরিশোধিত ময়দা বা চিনিযুক্ত সিরিয়াল দিয়ে তৈরি সকালের নাশতা, যাতে প্রোটিন খুব কম থাকে, তা রক্তে শর্করার দ্রুত বাড়িয়ে আবার কমিয়ে দিতে পারে। এর ফলে একজন ব্যক্তি আরও ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার মধ্যে মিষ্টি খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালের নাশতার একটি ভালো বিকল্প হতে পারে প্রোটিন। ডিম, পনির বা পর্যাপ্ত প্রোটিনযুক্ত অন্য কোনো সুষম নাশতা সকালের খাবারকে আরও তৃপ্তিদায়ক করে তুলতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করতে পারে।
আগের রাতে অপর্যাপ্ত ঘুম
চতুর্থ ভুলটি হলো আগের রাতে অপর্যাপ্ত ঘুম। এতে একজনকে শুধু ক্লান্তই করে না, পরের দিন সকালে ইনসুলিন সংবেদনশীলতাকেও প্রভাবিত করতে পারে। অপর্যাপ্ত ঘুমের পর রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।
মানসিক চাপ নিয়ে দিন শুরু করা
পঞ্চমটি, যেটিকে মানুষ সবচেয়ে কম গুরুত্ব দেয়, তা হলো আগে থেকেই মানসিক চাপ নিয়ে দিন শুরু করা। যেমন—মেসেজ স্ক্রল করা, কাজের নোটিফিকেশন দেখা অথবা দিন শুরু হওয়ার আগেই শরীরের স্ট্রেস রেসপন্স পুরোপুরি সক্রিয় থাকা অবস্থায় তাড়াহুড়ো করে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়া।
এই স্ট্রেস রেসপন্সের কারণে শরীর কর্টিসল এবং অ্যাড্রেনালিনের মতো হরমোন নিঃসরণ করতে পারে, যা কোনো খাবার গ্রহণ না করা সত্ত্বেও রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের প্রথম এক ঘণ্টা শান্ত থাকা, অল্প হাঁটা, প্রোটিন-সমৃদ্ধ সকালের নাশতা এবং নিয়মিত ঘুম বজায় রাখার চেষ্টা —এই সবই সকালে রক্তে শর্করার মাত্রা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।


